মুকুলে সাজছে আম বাগান, বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় চাষিরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আম গাছে এখন দেখা মিলছে গুটি আম। চলতি মৌসুমে গাছে গাছে ভালো মুকুল আসার পর তা ধীরে ধীরে গুটি আমে পরিণত হয়েছে। এতে ভালো ফলনের আশায় উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন স্থানীয় চাষিরা।
রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন। মোট ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি আম গাছ থেকে এ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহীর আমকে ঘিরে স্বপ্ন বুনেন চাষিরা ও ব্যাবসায়ীরা। আমের মৌসুমে রাজশাহীতে কোটি কোটি টাকার আমের ব্যবসা জমে ওঠে। অনলাইন ও অফলাইনে জমজমাট হয়ে ওঠে আম কেনাবেচা। তরুণ উদ্যোক্তারা আমের মৌসুমে অনলাইনে অর্ডার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম বেচাকেনা করে থাকেন। এবার আমের মুকুল ভালো হওয়ায় আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীতে এবার মার্চের প্রথম সপ্তাহে কিছু গাছে আমের গুটির দেখা মিলেছে। প্রায় সব গাছে আমের মুকুল আসায় ভালো ফলনের আশায় রয়েছেন চাষিরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে জানান কৃষিবিদরা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর এই চার জেলায় ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় আম গাছ রয়েছে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন।
রাজশাহী নগরী ও পবা উপজেলার কয়েকটি বাগানে দেখা গেছে, আম গাছে গুটি আম আসতে শুরু করেছে। তবে এখনও অনেক গাছে মুকুল আছে। অনেক গাছে হপার পোকার আক্রমণও দেখা গেছে। হপার পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার করছেন বাগান মালিকরা।
পবা উপজেলার বজরাপুর গ্রামের আমচাষি ওয়াজেদ আলী বলেন, এবার আমার সব গাছে মুকুল এসেছে। বেশকিছু গাছে এখনও মুকুল আছে। আশা করা যাচ্ছে এবার ভালো ফলন হবে। গত বছরে আমের দাম পাওয়া যায়নি। এবার কি হবে তা বলা যাচ্ছে না। এখন গুটি আম ভালোই দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে।
বাঘা উপজেলার আম উৎপাদক শফিকুল ইসলাম রপ্তানিকারকদের জন্য আম সরবরাহ করেন। তিনি বলেন, এবার সব গাছেই মুকুল এসেছে। অনেক গাছে দেখা মিলেছে আমের গুটি। তবে ভোরের দিকে কুয়াশারা দেখা মিলছে। যা মুকুলের জন্য ক্ষতি।
বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের আমচাষী সাদিয়া ইসলাম জানান, এ বছর আমাদের ২০০ বিঘা জমির বাগানে শতভাগ গাছে মুকুল দেখা গেছে। তিনিও রপ্তানিকারকদের আম সরবরাহ করেন।
অনলাইনে রাজশাহীর আম বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর আমের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমের অর্ডার পেয়ে থাকি। এবারও ব্যবসার জন্য এখন আম বাগান ক্রয়ের দিকে বেশি মনোযোগ। এবার বেশিরভাগ গাছে আমের মুকুল হয়েছে। ব্যসসা ভালো হবে বলে আশাবাদী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, এ বছর আমের অন ইয়ার। সাধারণত ২০ শতাংশ গাছে এক বছর পর পর ফল আসে। তবে এ কারণে ফলনের তারতম্য কমই ঘটে থাকে। তবে এবার ব্যতিক্রম হয়েছে। প্রায় সব গাছে দেখা মিলেছে আমের মুকুলের। তবে মুকুল ঝড়ে পড়া রোধে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। আশা করছি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

তিনি আরও বলেন, যেসব আম গাছে প্রচুর ফল ধরেছিল, সেসব গাছে এ বছর কম ফল ধরতে পারে। এই পরিস্থিতি আবহাওয়া, পরাগায়নের সমস্যা ও রোগবালাই ইত্যাদি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রীষ্মকালীন ফল আম উচ্চ তাপমাত্রা পছন্দ করে। তবে চাষের সময় খুব বেশি তাপমাত্রা ভালো নয়। এবার শোনা যাচ্ছে তাপমাত্রা বাড়বে। গত বছরে কম ছিল। মুকুল ও গুটি আসার সময়ের আদর্শ তাপমাত্রা ১৫-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে যাচ্ছে এবং রাতের তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রির আশেপাশে নেমে যাচ্ছে। এতে শষ্কাও রয়েছে।
