×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৫:২৪ পিএম

আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল

সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ। ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁসহ ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত। চাঁদপুরের পারভিন হত্যা মামলায় মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখে।।

এর আগে বিচারিক আদালতে রসু খাঁর সাজা কার্যকর করতে হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছিলো। ওই আপিলের শুনানি শেষে আদালত মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মসজিদের ফ্যান চুরির ঘটনায় চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের ছিঁচেকে চোর রসু খাঁ কমিউনিটি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।  পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একে এক বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তথ্য। রসু খাঁ নিজেই এসময় স্বীকার করেন ১১ নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা। ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে রসু খাঁ এমন সিরিয়াল কিলিংয়ের পথ বেছে  নেন বলে পুলিশকে জানান। তার টার্গেট ছিলো ১০১ নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা। পুলিশের হাতে আটকের মাত্র আড়াই মাস আগে রসু খাঁ পারভিনকে হত্যা করেন। গার্মেন্টস কর্মী পারভিনকে হত্যার দায়ে রসু খাঁ এবং তার দুই সহযোগীকে আসামি করে সে সময় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

পরবর্তীতে ওই হত্যা মামলার রায়ে রসু খাঁসহ (৪৫) মোট ৩ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। অপর দুজন হলেন, রসু খাঁর ভাগনে জহিরুল ইসলাম (৩৫) এবং তার সহযোগী মো. ইউনুছ (৩৮)। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল মান্নান এ রায় দেন। এরপর মামলার নথিসহ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। একইসঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রসু খাঁ চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামের মুন খাঁ ওরফে আবু খাঁর ছেলে। জহিরুল পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সৈয়াল বাড়ির মো. মোস্তাফার ছেলে। আর ইউনুস একই গ্রামের মৃত মিসির আলীর ছেলে। হত্যার শিকার পারভীন আক্তার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা ইউনিয়নের পালতালুক গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী। তার বাবার নাম মৃত কাজল খান।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২০ জুলাই রাতে রসু খাঁ ও অপর আসামিরা ফরিদগঞ্জ উপজেলার মধ্য হাঁসা গ্রামের মাঠে পারভীন আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, পারভীনের বাম স্তনে ও দুই পায়ের উরুতে ২০টি সিগারেটের ছেঁকার দাগ ছিল। ওই সময়ে পারভীনের পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ায় ২০০৯ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন ফরিদগঞ্জ থানার এসআই মীর কাশেম আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ের এসআই মোশফিকুর রহমান ঘটনার তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

আরো পড়ুন: পিএসসি থেকে প্রশ্নফাঁস খুবই কঠিন, কারণ জানালেন চেয়ারম্যান

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাবিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, মামলাটি দীর্ঘ ৯ বছর চলমান থাকা অবস্থায় আদালত ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। পাশাপাশি আসামিরা তাদের কৃত অপরাধ স্বীকার করায় আদালত এই রায় দেন। রসু খাঁর বিরুদ্ধে পারভিন হত্যা মামলা ছাড়াও আদালতে আরো ৭টি মামলা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App