‘বড় সাজ্জাদের’ দুই অনুসারী পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম নগরে অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৩০টি তাজা গুলি ও শটগানের কার্তুজসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার দুজন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও মোহাম্মদ রায়হানের সহযোগী। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও বিচারাধীন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চান্দগাঁও থানার পুরোনো চান্দগাঁও এলাকার পাঠানিয়া গোদা গোলাম আলী নাজির সড়কে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শনিবার সিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রাউজান উপজেলার আঁধারমানিক এলাকার মো. শুভ (২২) ও কদলপুর শমসের পাড়া এলাকার মো. সুমন (৩৩)।
শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ-সিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা শাখা-ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার দুইজনের মধ্যে শুভর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলিসহ একটি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পিস্তলের গায়ে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ লেখা আছে।
এছাড়া সুমনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলিসহ একটি ম্যাগাজিন ও একটি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপি বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুইজন বলেছে অস্ত্র, গুলি ও কার্তুজ নিজেদের কাছে রেখে তারা ‘বড় সাজ্জাদ’ ও রায়হানের নির্দেশে চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে চাঁদার দাবিতে নগরীর চন্দনপুরায় শিল্প গোষ্ঠী স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুজিবুর রহমান ও চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে একাধিকবার গুলি বর্ষণের ঘটনায় এবং বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে আসা যুবক রাজুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে ও মার্চ মাসে চাঁদা না পেয়ে তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ করেন মুজিবুর রহমান।
টেক্সটাইল, পোশাক, জ্বালানি খাতে ব্যবসা রয়েছে মুজিবুর রহমানের। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত মুজিবুর ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “দুবাই থেকে ফোন করে সাজ্জাদ নামে একজন আমাদের পরিবারের ব্যবসায়ী গ্রুপ থেকে চাঁদা দাবি করেছিল। বিষয়টি আমি গুরুত্ব দিইনি। পরে কয়েকজন এসে সকালে বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।”
গেল ৭ মে রাতে চট্টগ্রাম নগরীর রৌফাবাদে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসা রাউজানের রাজুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চোখে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমী আক্তারও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
গ্রেপ্তার শুভ ও সুমনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা আদালতে বিচারাধীন বলেও সিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
