ভারতে সেনা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন তিন কর্মকর্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
লাদাখের লেহ অঞ্চলের দুর্গম তাংস্তে এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ‘চিতা’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন আরোহী তিন সেনা কর্মকর্তা। গত ২০ মে দুর্ঘটনাটি ঘটলেও আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটিতে ছিলেন ৩ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল সচিন মেহতা, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও একজন মেজর। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও মেজর হেলিকপ্টারটি চালাচ্ছিলেন, আর মেজর জেনারেল সচিন মেহতা ছিলেন যাত্রী। দুর্ঘটনায় তিনজনই আহত হয়েছেন। তবে পাহাড়ি দুর্গম পরিবেশে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও তাদের প্রাণে বেঁচে যাওয়াকে ‘অলৌকিক’ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্ঘটনার পর মেজর জেনারেল সচিন মেহতার তোলা একটি সেলফি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হেলিকপ্টারটির পাশে পাথরের ওপর শান্তভাবে বসে আছেন তিন কর্মকর্তা। এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুরোনো ‘চিতা’ হেলিকপ্টার বহরের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৭০-এর দশকে চালু হওয়া এই হেলিকপ্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতের দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৮৪ সালে সিয়াচেন গ্লেসিয়ারে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন মেঘদূত’-এও এই কপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে একাধিক দুর্ঘটনায় পড়েছে চিতা বহর, যাতে বেশ কয়েকজন পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন।
সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে এই পুরোনো বহর সরিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার (এলইউএইচ) যুক্ত করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (এইচএএল) নির্মিত এই নতুন হেলিকপ্টারের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার এবং অপারেশনাল উচ্চতা ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার। পাঁচ আসনের চিতা হেলিকপ্টারকে একসময় বিশ্বের অন্যতম সেরা উচ্চতাভিত্তিক উড্ডয়ন সক্ষম কপ্টার বিবেচনা করা হলেও, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলো এর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
