মেঘনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের
মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা, মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
ফাইল ছবি
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নতুন রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত দেলোয়ার হোসেন (৩২) ওই গ্রামের আব্দুল মৃধার ছেলে ও স্থানীয় সাংবাদিক বাতেন মৃধার ছোট ভাই। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের তুলাতুলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন—বাতেন মৃধার পক্ষের আব্দুল খালেকের ছেলে আব্দুল আজিজ (৩৮) ও হায়দার আলীর ছেলে কামাল (৩৫)। অপর পক্ষের আহতরা হলেন চন্দনপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রয়াত সাবেক ইউপি সদস্য ওসমানের ছেলে নাছির উদ্দীন (৪৭) এবং তাঁর শ্যালক মো. হালিম (৩৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় গ্রামবাসীর সমর্থনে একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন নাছির উদ্দীন। তবে রাস্তার কিছু অংশ বাতেন মৃধার জায়গার ওপর দিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবেশী আলী আহম্মেদের বাড়িতে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে একটি বিচার-শালিসের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাতেন মৃধার পক্ষের কেউ উপস্থিত হননি। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে শালিসে উপস্থিত ব্যক্তিরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, সবার মতো শালিস শেষে নাছির উদ্দীনও বাড়ি ফেরার পথে তাঁর নিজ বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতের সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপাতে থাকে। তাঁর চিৎকার শুনে শ্যালক হালিম এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের চারজন গুরুতর আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এর কিছু সময় পর রাত সোয়া ১২টার দিকে দেলোয়ার হোসেন তাঁদের পুরোনো বাড়ি থেকে নতুন বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন। একপর্যায়ে তাঁকে ঘটনাস্থলেই কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় নাছির উদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
