চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে চলে গেলেন আরেকজন, মৃত্যু বেড়ে ৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে আরো একজন মারা গেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ৪০ বছর বয়সি সামির আহমেদের মৃত্যু হয় বলে ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন।
সামির শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে সকাল ৭টার দিকে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ১৬ বছর বয়সী কিশোর শাওন মারা যায়। মারা যাওয়া সামির সম্পর্কে শাওনের চাচা।
এদিকে সোমবার গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে শাওনের মা ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী মারা যান। এ নিয়ে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হল, বাকি ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।
সোমবার সন্ধ্যায় ৯ জনকে হাসপাতালে গ্রহণ করার পর শাওন বিন রহমান বলেছিলেন, “এখানে পৌঁছানোর আগেই রানীর মৃত্যু হয়, বাকি আট জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।”
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় হালিশহর এইচ ব্লকের 'হালিমা মঞ্জিল' নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায়। তারপর শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে একে একে সবাই বের হয়ে আসেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন; তারা সে সময় সেহরি করছিলেন।
মৃত রানী, শাওন, সামির ছাড়া দগ্ধ বাকিরা হলেন- রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোটভাই সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেছিলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে এ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।” বিস্ফোরণে ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা এবং লিফটের দরজাও ভেঙে গেছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
