৩ দিনে ঢাবির কুয়েত মৈত্রী হলের শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলে দূষিত পানি ব্যবহারের অভিযোগে গত তিন দিনে শতাধিক শিক্ষার্থী পানিবাহিত রোগের উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডায়রিয়া, বমি ও পেটব্যথাজনিত সমস্যায় ভোগা শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল ক্যাম্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার-এর প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আলী জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। সর্বশেষ হিসাবে, তিন দিনে অসুস্থ হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, বমি ও ডায়রিয়াজনিত সমস্যা সাধারণত দূষিত পানি বা খাবারের কারণে হয়ে থাকে। বর্তমানে হলে দুইজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের পানির ট্যাংক পরিষ্কারের পর পানিতে ব্লিচিংয়ের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই সেই পানি ব্যবহার করতে গিয়ে বমিভাব অনুভব করছেন।
হলের শিক্ষার্থী জুয়েনা আলম মুন বলেন, মুখ ধোয়া বা কুলি করতে গেলেই ব্লিচিংয়ের গন্ধে বমি আসে। গোসলের পানিতেও একই সমস্যা হচ্ছে। তার অভিযোগ, ওয়াশরুম পরিষ্কারের পর পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার না করায় ব্লিচিংয়ের প্রভাব থেকে গেছে।
আরেক শিক্ষার্থী সাজরিন আমিন বলেন, কয়েকদিন ধরে অসুস্থতার ঘটনা বাড়ছে। ক্যান্টিনের খাবার ও পানির মধ্যে যেকোনো একটি কারণ হতে পারে। তবে যারা ক্যান্টিনে খান না, তারাও অসুস্থ হচ্ছেন- এতে পানিকেই মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী বোতলজাত পানি ব্যবহার করছেন।
এদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী ফাহমিদা নাসরিন অভিযোগ করেন, রাতে চিকিৎসক এসে একসঙ্গে কয়েকজনকে একই ধরনের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ নয়।
কিছু শিক্ষার্থীর দাবি, হলের প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসিক ছাত্রী কোনো না কোনোভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি অনেকটা মহামারীর মতো রূপ নিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পানির নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবা সুলতানা।
তিনি বলেন, সমস্যা দেখা দেওয়ার পরপরই পেশাদারদের মাধ্যমে পানির রিজার্ভার পরিষ্কার করা হয়েছে এবং ফিল্টারগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় পানিতে এখন পর্যন্ত ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ফিল্টারের কিট পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নতুন করে পানির পরীক্ষা চলছে। তার দাবি, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। পাশাপাশি প্রতিদিন মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত পানির পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
