স্বর্ণের দাম বড় পতন, ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানা অস্থিরতার পর অবশেষে মূল্যবান স্বর্ণের দামে আবারও পতন এসেছে। গতকাল সকালে বড় উত্থানের পর রাতেই স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।
আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।
এদিকে বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে তারতম্য হতে পারে।
এর আগে, আজ সকালে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। একই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।
আরো পড়ুন: ইফতারে কেন খেজুর খাবেন?
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১০ দফা কমানো হয়েছে। অপরদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০৭ টাকায়।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দামে ১৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ দফা দাম বেড়েছে এবং সাত দফা কমেছে। আর ২০২৫ সালে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং তিনবার কমেছিল।
উল্লেখ্য, সোনার দাম কখনও ঊর্ধ্বমুখী আবার কখনও নিম্নমুখী হচ্ছে। স্থির না হওয়ার কারণ অনেকগুলো। সাধারণত যেকোনো দেশে ঝুঁকি এড়াতে সোনা মজুত করে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে সেই পরিমাণ বেড়ে গেলে সোনার মূল্য বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় কোনো দেশের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন ঘটে। সেক্ষেত্রে নিজেদের সম্পদ রক্ষার্থে সোনা বিনিয়োগ করেন ব্যবসায়ীরা। ফলে তাদের কাছে ধাতুটির আকর্ষণ বাড়ে। সেই সঙ্গে দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়। ডলারের মূল্য নিম্নমুখী হলে সোনার দাম বেড়ে যায়। আবার ডলারের দাম বাড়লে সোনার দর হ্রাস পায়।
