আল জাজিরার বিশ্লেষণ
ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহাকেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের প্রাক–পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।
বিশেষ করে গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে তার জনসভায় উপচে পড়া ভিড়কে বিএনপির নেতারা দলটির পুনরুত্থানের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আংশিকভাবে কোণঠাসা হয়ে থাকা বিএনপি এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সেই লক্ষ্য পূরণে তারেক রহমানের সক্রিয় নেতৃত্ব দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
তবে এই জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তার নেতৃত্বে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। দীর্ঘসময় প্রবাসে থাকার কারণে দেশের তৃণমূল রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে প্রায় ৮০টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতায় দলের কর্মীদের জড়িত থাকার ঘটনা দলীয় শৃঙ্খলার অভাবকে ফুটিয়ে তুলেছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় তারেক রহমানের কিছু বক্তব্যে তথ্যগত ত্রুটি এবং উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতির বিষয়েও সমালোচনা উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, বিশাল অংকের বৃক্ষরোপণ বা বেকার ভাতার মতো প্রস্তাবগুলোকে প্রস্তুতির ঘাটতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরো পড়ুন : নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান: গ্যাসের খনি আবিষ্কার করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবো
তারেক রহমানের নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে একগুচ্ছ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমিত করা, দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, প্রান্তিক পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের অঙ্গীকার প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
তবে সমালোচকেরা মনে করছেন, দলের পুরনো ভাবমূর্তি কাটিয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই তারেকের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি তারেক রহমানের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, তিনি কি কেবল পারিবারিক উত্তরাধিকার বহন করছেন, নাকি প্রকৃত অর্থেই ‘উত্তর–হাসিনা বাংলাদেশে’ প্রত্যাশিত পরিবর্তনের রূপকার হয়ে উঠবেন।
