নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে রাতভর উত্তেজনা, মুচলেকায় মরদেহ নিলেন মা
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর বুধবার সকালে মুচলেকা দিয়ে মৃত নবজাতকের লাশ ও আটক স্বজনদের নিয়ে বাড়ি ফেরেন শিশুটির মা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল দের সাত দিনের কন্যাশিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৫ মে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে জয় দেব নামে মৃত শিশুর এক স্বজনকে মারধর করেন। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে মামুন নামে আরও এক যুবক মারধরের শিকার হন। পরে তাঁদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, নবজাতকের লাশও কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে স্বজনদের আটকে রাখার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, মেডিকেল কলেজ প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে মুচলেকা নিয়ে আটক দুই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নবজাতকের বাবা উজ্জ্বল দে বলেন, শিশুটির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে চিকিৎসকদের কাছে নেওয়া হয়। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, একজন স্বজন আবেগাপ্লুত হয়ে কিছু কথা বললেও কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করেননি।
শিশুটির মা পূজা রানী দাস বলেন, ‘আমার সন্তানের মৃত্যুর পর হয়তো আমার মামা কিছু কথা বলেছেন, কিন্তু তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। তারপরও তাঁকে মারধর করা হয়েছে।’
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ইন্টার্ন শিক্ষার্থী মুনয়াত মুন দাবি করেন, মৃত শিশুর স্বজনেরা নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। আরেক ইন্টার্ন শিক্ষার্থী শান্ত তালুকদার বলেন, স্বজনেরা দায়িত্বরত নার্সদেরও হেনস্তা করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে অলক কান্তি শর্মা জানান, শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের পরিচালক এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধান করা হয়েছে।
