আগুনে পুড়ল ১৭ দোকান, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঐতিহ্যবাহী মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বন্দরের ১৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শনিবার (১৬ মে) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সূত্রপাত নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও স্থানীয়দের বড় অংশের ধারণা, একটি সার ও কীটনাশকের দোকানের কোল ঘেঁষে থাকা বাঁশঝাড়ের বৈদ্যুতিক খুঁটি (পিলার) থেকেই প্রথম আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়। নিমেষের মধ্যেই সেই আগুন তীব্র আকার ধারণ করে চারপাশের দোকানপাটে ছড়িয়ে পড়ে।
ভয়াবহ এই আগুনের খবর পেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। পরবর্তীতে ফায়ার ফাইটারদের প্রায় এক ঘণ্টার আপ্রাণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনের লেলিহান শিখা নিমেষেই কেড়ে নিয়েছে ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা পুঁজি। চোখের সামনে সবকিছু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা ও সর্বস্বান্ত। এবারের অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সার ও কীটনাশকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন- ফজলুল হক (সুতার দোকান), ফয়সাল (ক্রোকারিজের দোকান),সুজন (হার্ডওয়্যার সামগ্রী),মিরাজ (পানের দোকান), শান্তি (সেলুন), শাকিল (মুদি দোকান), ফজলু (প্লাস্টিকের দোকান)। এছাড়াও আগুনে পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী তারেক, কবির, শাহাবুদ্দিন, রফিক, বশির, জহিরুল, মাসুম, আলম এবং আজিজুল হক। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেদের পুড়তে থাকা স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপ দেখে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মিতালী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাইদুল ইসলাম লিপু জানান, ‘তার প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি।’
ব্যবসায়ী শিপন জানান, ‘তার প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বারবার অগ্নিকাণ্ডে বাড়ছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।’
নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম জানান, ‘অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৭টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ৩টি সার ও কীটনাশকের দোকান, ১টি চায়ের দোকান, প্লাস্টিক, দড়ি-কাচি ও ক্রোকারিজের দোকান, হার্ডওয়্যার, মুদি, সেলুন ও পানের দোকান।’
