স্কুলে ভর্তিতে আবার পরীক্ষা পদ্ধতি চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, স্কুল ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির পরিবর্তে আবার পরীক্ষা নির্ভর পদ্ধতিতে ফিরে যেতে চায় সরকার।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষাখাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এই সংলাপের আয়োজন করে।
স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’ হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, অনেক স্কুলই জানিয়েছে তারা লটারি পদ্ধতি পছন্দ করছে না। বিষয়টি অনেকটাই অস্বচ্ছ। তিনি জানান, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে যে লটারি থেকে আবার পরীক্ষা নির্ভর পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
আরো পড়ুন : অনুদান পাবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরা, আবেদন যেভাবে
নতুন বছরের আগেই শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারিকুলামকে দলীয়করণ করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারির আগেই কারিকুলাম উন্নয়ন ও যেখানে প্রয়োজন সেখানে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, সেভাবেই কারিকুলাম উন্নয়ন করতে হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের একটি নির্দিষ্ট ইশতেহার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে সরকার এগিয়ে যাবে, আর তা না হলে নাগরিক সমাজই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু সনদ অর্জন নয় জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার বড় লক্ষ্য রয়েছে। মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার। তাই শিক্ষার আরেকটি উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দক্ষতা, কারিগরি জ্ঞান ও সক্ষমতা তৈরি করা, যাতে শিক্ষিতরা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হতে পারেন এবং দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন। এ দুটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হিসেবে অন্তত ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাত্ত্বিকভাবে এবং অষ্টম শ্রেণি থেকে ব্যবহারিক উপাদানসহ কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য, এই তিন বিভাগে অন্তত একটি করে কারিগরি বা ভোকেশনাল বিষয় বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকার তৃতীয় ভাষা শেখানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব ভাষা শেখার মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জাপান, চীন, কোরিয়া, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব দেশের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা শিক্ষক পাঠিয়ে ভাষা শিক্ষায় সহযোগিতা করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, তৃতীয় ভাষা শেখানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ দেশে অনেক স্কুল রয়েছে। শুরুতে প্রতিটি জেলায় নির্দিষ্ট ভাষাকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম শুরু করা গেলে ধীরে ধীরে তা শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদরাসা, এই তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যার ফলে কাঠামোগত বৈষম্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, যা নিয়েও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
