×

মুক্তচিন্তা

সামরিক শাসনকাল : স্বরাষ্ট্র সচিবের ১৯৮৫

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৫৬ এএম

গত সপ্তাহের পর একুশের প্রথম প্রহরে : ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪-এর রাত, একুশের প্রথম প্রহর। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রেসিডেন্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। বিরোধীদলীয় ছাত্র ও কর্মীরা প্রস্তুত ছিল। সম্ভবত প্রেসিডেন্টের গোয়েন্দা আজ্ঞাবহরা পরিস্থিতি বিচার করে তাকে যথার্থ প্রতিবেদন দেননি অথবা উদ্ভূত পরিস্থিতি তারা আদৌ বিবেচনায় আনেননি কিংবা জানার পরও প্রেসিডেন্ট তা উপেক্ষা করেছেন। সে রাতের অরাজক পরিস্থিতি প্রেসিডেন্টের জন্য বিব্রতকর ও অপমানজনক ছিল। ফলে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ শহীদ মিনারে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি ছিলেন উদাসীন। ১৯৮৪-এর ঘটনায় বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর রিপোর্টে প্রেসিডেন্টের একুশের প্রথম প্রহরে প্রথম শহীদ মিনারে যাওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব কাজী আজহার আলী একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের পুষ্পমাল্য অর্পণ করা বা না করা নিয়ে কিছু কৌতূহল সঞ্চারক তথ্য উপস্থাপন করেছেন। একুশের না হলেও প্রথম শহীদ মিনারে আসা প্রাদেশিক সরকারপ্রধান হচ্ছেন ডক্টর এম এন হুদা। গভর্নর হিসেবে তার স্থিতি কম ছিল। ১৯৭২-এর একুশের প্রথম প্রহরে শহীদদের সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৪-এর এমনই লগ্নে তিনিও ছাত্রজনতার বাধার সম্মুখীন হন। ১৯৭৫-এ তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টায় শহীদ মিনারে হাজির হন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম দিকে মধ্যরাতে গেলেও পরে দলীয় কর্মী ও ছাত্র সমর্থকবেষ্টিত হয়ে সকালে সেখানে থাকতেন। প্রেসিডেন্ট সাত্তার গিয়েছেন সকাল সাড়ে ১০টায়। ১৯৮৫-এর একুশের রাতেও ‘শেখ মুজিব ও জিয়ার ছবি টাঙানো নিয়ে’ ছাত্রদের একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে শহীদ মিনারে আসেন, স্বরাষ্ট্র সচিবকেও থাকতে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সেখানে থাকাকালে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ছাড়াও ৫০ জন সৈনিক সিভিলিয়ান বেশে শহীদ মিনারে অবস্থান করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব লিখেছেন, বসুনিয়া হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি; গত দুবছরে সরকার যাদের গ্রেপ্তার করতে চেয়েছে তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি- এগুলো স্পেশাল ব্রাঞ্চ, এনএসআই ও ডিএফআইর ব্যর্থতা। প্রেসিডেন্ট পুলিশের আইজি ই এ চৌধুরীকে সরিয়ে দিতে চান কারণ তিনি মনে করেন চৌধুরী আওয়ামী লীগপন্থি, আর স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি মোরশেদকেও সরাতে হবে, কারণ দীর্ঘদিন একই পদে থেকে তিনি কার্যকারিতা হারিয়েছেন। সামরিক কর্মকর্তাদের সভায় প্রেসিডেন্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল আবদুল মান্নান সিদ্দিকীকে অপমান করায় তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নিজেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন, অপমানিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই থাকতে অনুরোধ করলে তিনি সম্মত হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ তিনি লিখলেন, যে বাকশালের নাম ১৯৭৫ সালে এ দেশের লোক শুনতে পারত না তা স্বনামে আত্মপ্রকাশ করেছে, স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামী ‘আত্মপ্রকাশ করে বহু বিস্তার লাভ করতে সক্ষম হয়েছে’। ১৯৭৫ এবং ১৯৮৫ সম্পূর্ণ আলাদা সময়। তিনি লিখেছেন, ‘১৯৭৫ সালে এত রাজনৈতিক সমস্যা ছিল না। তখন রাজনৈতিক শূন্যতার মাঝে জেনারেল জিয়া নিজেকে সহজেই জনপ্রিয় করতে এবং একটি নতুন দল গঠন করতে সক্ষম হন। শেখ মুজিব ১৯৭৪ সালে জাসদ নামক একটি শিশু দলের চাপে একদলীয় বাকশাল শাসন প্রবর্তন করেন।’ ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি একটি ‘অভাবনীয়’ পরিস্থিতির কথা লিখলেন, ‘এটা অভূতপূর্বও বটে। সামরিক প্রশাসন নির্বাচন দিতে চায়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন প্রতিরোধ করছেন।’ স্বরাষ্ট্র সচিব প্রেসিডেন্ট এরশাদের প্রশংসাই করেছেন। ‘আমি জানি না কেন তিনি ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে এ দেশের শাসনভার নিয়েছিলেন। তবে ১৯৮৩ সাল থেকে একে একে তিনি রাজনৈতিক দলের দাবিগুলো মেনে নিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক।’ অবশ্য স্বরাষ্ট্র সচিব এ মন্তব্যও করেছেন- প্রেসিডেন্টের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওয়াদা বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনা কেউই বিশ্বাস করেননি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ফর্মেশন কমান্ডারদের বৈঠক, গুজব ছড়িয়ে পড়েছে ‘প্রেসিডেন্ট কঠিন সামরিক আইন শাসন জারি করবেন’, সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন জেনারেল আতিকুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় সব বন্ধ করে দেয়া হবে, বহু লোক গ্রেপ্তার হবে। বহু সাংবাদিকের অনুসন্ধানের জবাবে সচিব জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুই অবহিত নয়। গুজবটা মিথ্যে ছিল না- ঠিক পরদিন ১ মার্চ ১৯৮৫ প্রেসিডেন্ট এরশাদ জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ‘পুনরায় কড়া সামরিক শাসন’ জারি করেন। সামরিক প্রশাসক ও আদালত পুনরায় চালু হয়, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়, ছাত্রাবাস খালি করা হয়। রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সান্ধ্য আইন বলবৎ করা হয়। বিরোধীদলীয় দুই প্রধান শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া গৃহবন্দি হন। তাদের ফোন কেটে দেয়া হয়, পুলিশ প্রহরা বসানো হয়। তারা বেরোতে পারবেন কিংবা বাইরের কেউ তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। কিন্তু তাদের যে গৃহবন্দি করা হয়- এ কথা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। সিএমএলএ অফিস কঠোর সেন্সরশিপের ফরমান জারি করতে চাইলেও বেসামরিক তথ্যমন্ত্রী এ আর ইউসুফ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তাদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিলেও বললেন, সামরিক আইনের সামনে সবাই সমান, ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেদিন রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী মিছিল করায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলেজ দুটো বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট গণভোট করে তার ক্ষমতা গ্রহণের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন। তিনি নিজের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম জনদলকে গণভোটে জড়াতে চাইলে স্বরাষ্ট্র সচিব ও মন্ত্রী পৃথকভাবে নির্বাচনটিকে রাজনৈতিকীকরণ করা থেকে মুক্ত রাখার পরামর্শ দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্ট এক সভায় স্বরাষ্ট্র সচিবকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা দেশের উন্নতির জন্য কাজ করেন। কিন্তু আমরা সামরিক বাহিনীর লোকেরা সেটা করতে চাইলে আপত্তি করেন কেন? সেনা কমান্ডারদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট এরশাদ গণভোটের সিদ্ধান্ত নেন। বেসামরিক কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের কথা জেনেছেন সংবাদপত্রের পাতা থেকে। এটা মনে করার সুযোগ থেকে যায় যে, এই গণভোটে তাদের কোনো দায়দায়িত্ব বা অংশীদারত্ব নেই। স্বরাষ্ট্র সচিবের পরামর্শ, প্রেসিডেন্ট যেন বেসামরিক কর্মকর্তাদের জড়িয়ে নেন। প্রেসিডেন্ট তাই করলেন। ৭ মার্চ সচিবালয়ে সব সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে সভা করেন এবং বলেন রাজনীতিবিদদের অসহযোগিতার প্রেক্ষাপটে তার প্রতি জনগণের আস্থা পরীক্ষা করার জন্য গণভোট আয়োজন করা ছাড়া বিকল্প নেই। কাজেই বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা লাগবে। (গণভোটের দায়িত্ব আমিও পালন করেছি। ২১ মার্চ ১৯৮৫-এর ‘শান্তিপূর্ণ গণভোট’-এ আমি সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাচন কন্ট্রোল রুমে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করি। জনগণ কত ভাগ সত্যি ভোট দিয়েছে এ প্রশ্নের জবাব অনুমেয়, তবে যারা ভোট দিতে এসেছেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতেই এসেছেন তবুও অনেক ‘না’ ভোট পড়েছে। ভোটে অন্তত প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।) ২১ মার্চ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানে চট্টগ্রামে সফরসঙ্গী হন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান, শ্রমমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, একজন জার্মান সাংবাদিক এবং স্বরাষ্ট্র সচিব। চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে এই বিভাগের ডিসি, এসপি, ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বলেন, রাজনৈতিক নেতারা সেনাবাহিনী, বিডিআর এবং পুলিশকে হেয় করেছে। ‘সেনাবাহিনী কি এ দেশের লোক নয়? তারা কি এ দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেনি? তারা না থাকলে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এতদিনে আলাদা দেশ হয়ে যেত।’ সেই সভায় জেলা প্রশাসনগণ জেলা সামরিক কর্মকর্তার দুর্ব্যবহার সম্পর্কে অভিযোগ করে, মন্ত্রীদের জেলা সদরে দীর্ঘ অবস্থান স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটায় বলেও জানায়। ২১ মার্চের গণভোটে ৭২ শতাংশ ভোটার তাদের ম্যান্ডেট প্রয়োগ করেছে। প্রদত্ত ভোটের ৯৪.১৪ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট অর্থাৎ এরশাদকে বহাল রাখার পক্ষে রায়; ৫.৫ ভাগ ‘না’ ভোট আর একাধিক রয়েছে বাতিল ভোট। পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়ার জন্য আস্থা অনাস্থার গণভোটে কাগজে-কলমে ৮৯ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন। প্রদত্ত ভোটের ৯৯ শতাংশ হ্যাঁ ভোট- সঙ্গত কারণেই হিসাবটা হাস্যকর। স্বরাষ্ট্র সচিব প্রেসিডেন্ট এরশাদকে বলেছিলেন, ৫৫ ভাগ ভোট কাস্ট হওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু ‘জনদল ও মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যায় এবং ব্যালট পেপার ছিঁড়ে বাক্সে ফেলে। এ ধরনের ঘটনা ঢাকাসহ প্রায় সব শহরেই ঘটেছে। গ্রামাঞ্চলে এ কর্মটি করেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও পোলিং অফিসাররা। কয়েকজন ডিসি স্বরাষ্ট্র সচিবকে জানিয়েছেন শহরাঞ্চলে ২০-২৫ ভাগ এবং গ্রামাঞ্চলে ৩৫-৪০ ভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসেছে। ২২ মার্চ সন্ধ্যায় বিজয়ী প্রেসিডেন্ট সন্তুষ্ট হয়ে সেনাভবনের বাসায় মন্ত্রী ও সামরিক ও বেসামরিক অফিসারদের অভিনন্দন গ্রহণ করেন এবং স্বরাষ্ট্র সচিব কাজী আজাহার আলী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুবুজ্জামানের কাছে তাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব মনে করেন রাজনীতিবিদদের অসহযোগিতাই প্রেসিডেন্ট এরশাদকে গণভোটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নির্বাচনের দোরগোড়ায় এসে বারবার ফিরে যেতে হয়েছে। ‘এ অবস্থায় গণভোট ছাড়া আর কী উপায় ছিল? এ প্রশ্ন অনেক লোকের কাছে করেছি। রাজনৈতিক নেতাসহ কেউই জবাব দিতে পারেননি।’ তবে গণভোটের সিদ্ধান্তটি সামরিক কর্মকর্তাদের। আয়োজনকারী বেসামরিক প্রশাসন। গণভোটের বৈধতা দিয়ে এরশাদ শাসনের নতুন অধ্যায় শুরু হলো বলে স্বরাষ্ট্র সচিব মনে করলেন। ১৯৭৭-এর তুলনায় কম ভোট পড়লেও বিবিসি একে বলেছে ‘হলো রেফারেন্ডাম’- ফাঁপা গণভোট। ভোট পর্যবেক্ষকরা কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুব সামান্যই দেখেছেন। প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসাররা বলেছেন জনদল কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও ইউনিয়ন কর্মকর্তার বহুসংখ্যক ব্যালট পেপার বাক্সে ফেলেছেন। এমনকি সরকারি কর্মচারীরাও ভোট দিতে যাননি। গণভোটে বিপুল বিজয়ের পর পাকিস্তান সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকার বিজয়ী প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানায়নি। ২৯ মার্চ প্রেসিডেন্ট এরশাদ স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করে বলেন, গণভোটের ফলকে তিনি তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বহু পরিশ্রম আর ১৪/১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই গণভোট সম্পর্ক প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব অবাক হলেন। প্রেসিডেন্ট সম্ভবত বুঝতে পেরেছেন এই ‘ফাঁপা বিজয়’ তার অবস্থানের তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি। মানুষ তখনো বলত সামরিক প্রেসিডেন্ট, গণভোটে জেতার পরও একই কথা! গণভোটে অপ্রতিদ্ব›দ্বী প্রেসিডেন্টের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর বড় ধরনের শুকরিয়া মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়- সামরিক আইন প্রশাসকের সদর দপ্তরে মন্ত্রী সচিব ও জেনারেলদের নিয়ে এই বিশাল বিজয় জন্য আল্লাহর কাছে শোকরানা জ্ঞাপন করতেই মিলাদ। প্রেসিডেন্ট এরশাদের বক্তব্য আবারো গণমাধ্যমে এসেছে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে ভুল করেছে। তারা ছোট ছোট বামপন্থি দলের খপ্পরে পড়ে নিজেদের ক্ষতি করেছে। কৌতূহলের বিষয় হচ্ছে এরশাদ বুদ্ধিজীবীদের কারো কারো সহানুভূতি লাভ করতে শুরু করেছেন। স্বরাষ্ট্র সচিব ঢাকা মিউজিয়াম প্রধান ড. এনামুল হকের বাসায় প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষাবিদদের বলতে শুনেছেন- এরশাদের আর কী দেয়ার ছিল? মিলাদ উত্তর আহার পর্বে স্বরাষ্ট্র সচিব প্রেসিডেন্টকে জানালেন রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মেজর (অব.) হুদাকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র সচিবেরই স্বীকারোক্তি ডিজিএফআই ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় মেজর হুদাকে জেলগেটে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা শুনে রাষ্ট্রপতি যে মন্তব্য করলেন তাও বেশ গুরুত্ববহ : ‘ওদের ছাড়া যাবে না। ওরা জেল থেকে বেরোলে হাসিনার জন্য বিপজ্জনক হবে।’ হেলিকপ্টারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর ও গণসংযোগ প্রেসিডেন্ট এরশাদের একটি প্রিয় রুটিনে পরিণত হয়। জিয়াউর রহমান ঢাকার বাইরে রাতযাপনকালে নিহত হয়েছেন। তাতে এরশাদের কোনো ভূমিকা থাক বা না-ই থাক নিজের ব্যাপারে তিনি সতর্ক, সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকা ফিরে আসা চাই। প্রেসিডেন্টের রাতযাপন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জেলার সার্কিট হাউসগুলো অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে এবং উন্নতিও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে রাজভক্তিতে সামান্য হেরফের ঘটেনি। যুগ যুগ ধরে একই কায়দায় পথের দুধারে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা ফুলের পাপড়ি ছড়ায়, মালা পরায়, পুষ্পস্তবক তুলে দেয়। একই সেøাগান, কেবল নামের পরিবর্তন। আজম খান, মোনেম খান, আইয়ুব খান, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, এরশাদ সবার বেলায় একই আচরণ; এরশাদ তুমি এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সঙ্গে। ক্ষমতা বেপরোয়া করে তোলে, ডেকে আনে দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি। ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নাটকীয় লড়াইয়ে জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা

নাটকীয় লড়াইয়ে জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা

জ্বালানির দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়ে না

বাণিজ্যমন্ত্রী জ্বালানির দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়ে না

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

২৩২ কোটি টাকার মুহুরী সেচ প্রকল্পে মিলছে না সুফল

২৩২ কোটি টাকার মুহুরী সেচ প্রকল্পে মিলছে না সুফল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App