‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বাড়বে খাদ্যের দাম, বেশি প্রভাব এশিয়ায়’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১০:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে এবং এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব এশিয়া মহাদেশে পড়বে। এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, প্রণালিটি বন্ধ হলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে এশিয়ায়। কারণ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত পণ্যের প্রায় ৮৪ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়।
প্রতিবেদনে ইউএনসিটিএডি বলেছে, জ্বালানি, সার ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব খাদ্যের দামের ওপর পড়তে পারে। এতে বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ৩৮ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি বিশ্বের ২৯ শতাংশ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও ১৯ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই জলপথ দিয়েই যায়।
ইউএনসিটিএডির বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, বিশ্বে জাহাজে করে পরিবহন করা মোট সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান মাইন বসাতে শুরু করেছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত আছে, এমন দুটি সূত্র জানিয়েছে, মাইন বসানোর কাজ এখনো খুব একটা ব্যাপক নয়। গত কয়েক দিনে গুটিকয়েক মাইন বসানো হয়েছে।
তবে একটি সূত্র বলেছে, ইরানের হাতে এখনো ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র যুদ্ধযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ অক্ষত রয়েছে। ফলে দেশটি চাইলে এ জলপথে কয়েক শ মাইন ছড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের বিচ্ছিন্নভাবে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ব্যবহার করার সক্ষমতা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে—যদিও আমাদের কাছে এমন কোনো নিশ্চিত খবর নেই—তবে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া হোক!’
ট্রাম্প আরও বলেন, যদি মাইন বসানো হয়ে থাকে এবং সেগুলো সরানো না হয়, তবে ইরানকে ‘নজিরবিহীন’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে তেহরান যদি বসানো মাইনগুলো সরিয়ে নেয়, তবে তা হবে ‘সঠিক পথে এক বিশাল পদক্ষেপ’।
সূত্র: আল-জাজিরা
