নতুন আইনে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে যে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা অবৈধ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। তবে রায়ের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট অন্য একটি আইনের অধীনে সব দেশের পণ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ভয়ানক আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যেসব বিচারক তার বাণিজ্য নীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারা ‘বোকা’।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে ঘোষিত তার বৈশ্বিক শুল্কের বেশিরভাগ অংশ বেআইনি ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নতুন শুল্ক পরিকল্পনা উন্মোচন করেন।
৬-৩ ভোটে দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা বলেন, প্রেসিডেন্ট ১৯৭৭ সালের আইইইপিএ প্রয়োগ করতে গিয়ে তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। এই রায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যেসব মার্কিন রাজ্য ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল তাদের জন্য বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে আইইইপিএ-র আওতায় আদায়কৃত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরতের আইনি পথও উন্মুক্ত হতে পারে, যদিও তা পেতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রয়োজন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
আরো পড়ুন : ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক অবৈধ
হোয়াইট হাউসে তিনি জানান, শুল্ক কার্যকর রাখার জন্য তার হাতে আরো আইন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে এসব শুল্ক প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।
রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ ছয় বিচারক ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিপক্ষে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে তিন উদারপন্থি বিচারকের পাশাপাশি ট্রাম্পের মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কনে ব্যারেট ও নেইল গোরসাচও ছিলেন। অন্যদিকে রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, ব্রেট কাভানহ ও স্যামুয়েল আলিতো ভিন্নমত পোষণ করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানদের হাতে নিয়োগপ্রাপ্ত যেসব বিচারক তার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তা নিয়ে তিনি ভীষণ লজ্জিত। তাদের দেশপ্রেম নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে একই দিন ট্রাম্প ধারা ১২২ নামে পরিচিত একটি আইনের অধীনে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এই আইনে প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
নতুন আদেশে কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার, কমলা ও গরুর মাংসসহ কিছু কৃষিপণ্য, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স এবং নির্দিষ্ট কিছু গাড়িতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে ছাড়ের তালিকা অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএর আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর অধিকাংশ পণ্য ছাড় পাবে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তাদের ওপরও ধারা ১২২ অনুযায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফলে পূর্বে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত শুল্ক চুক্তিগুলো কার্যত বাতিল হয়ে যাবে।
এ ছাড়া ধারা ২৩২ ও ৩০১সহ আরো কয়েকটি আইনের আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার যুক্তি দেখিয়ে শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে, যা বিবেচনায় রেখেছে হোয়াইট হাউস। এর মধ্যে কিছু আইন আগেও ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। গত বছর ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি খাতে আইইইপিএর বাইরে অন্য আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি, যেগুলোতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেনি।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো জেফরি গার্টজ বলেন, পরিস্থিতি এখন আরো জটিল ও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে।
