×

ইষ্টিকুটুম

ডাকটিকেটে নজরুল

Icon

আহমেদ শাকিল

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ডাকটিকেটে নজরুল

কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে যদি তার দেশ ডাকটিকেট প্রকাশ করে, তাহলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তি সে দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। আর যদি কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে কয়েকটি দেশ থেকে ডাকটিকেট প্রকাশিত হয়, তাহলে বুঝতেই পারছ- তিনি কতটা মহান! আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করেছে তিনটি দেশ- যথাক্রমে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডাকটিকেট প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। চলো আজ জেনে নিই সেসব ডাকটিকেটের বৃত্তান্ত...

১৯৬৮ সালে কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিচ্ছবি-সংবলিত প্রথম ডাকটিকেট প্রকাশিত হয়। তৎকালীন পাকিস্তান ডাক বিভাগ এই ডাকটিকেট প্রকাশ করে। নজরুলের প্রথম ডাকটিকেট অবমুক্ত করার এক সপ্তাহ আগেই তখনকার ডাক বিভাগ টিকেটের ছবিসহ সব প্রচারমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু ডাকটিকেটে একটি বড় ভুল ছিল। কবির জন্মবর্ষ লেখা হয়েছিল ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ। এই ভুল নিয়ে বহু সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেটি পরবর্তী সময়ে সংশোধন করা হলেও আরেকটি ভুল রয়ে যায়। ডাকটিকেটে ছাপা হয় ‘গাহি সাম্যের গান/মানুষের চেয়ে নাহি কিছু বড়/নাহি কিছু মহীয়ান।’ কিন্তু কবিতার এই অংশটি ছিল মূলত, ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই/নহে কিছু মহীয়ান।’ এই ভুল নিয়ে ১৫ ও ৫০ পয়সা সমমূল্যের টিকেট দুটো একই নকশায় হলেও ভিন্ন ভিন্ন রঙে প্রকাশ হয়। হালকা হলুদ ও বাদামি এবং লাল ও বাদামি রঙের ডাকটিকেটগুলোর পাশাপাশি নিয়মমাফিক উদ্বোধনী খাম আর বিশেষ সিলমোহরও প্রকাশ করা হয়েছিল।

১৯৭৬ সালে ঢাকার পিজি (বর্তমান বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কবি নজরুল। এর চার বছর আগে ১৯৭২ সালে অর্থাৎ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরের বছরই বিদ্রোহী কবিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৭৭ সালে দুটো ডাকটিকেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। স্বাধীন বাংলাদেশে এটাই কোনো কবিকে নিয়ে প্রথম ডাকটিকেট। ৪০ পয়সা ও ২ টাকা ২৫ পয়সা মূল্যমানের সেই ডাকটিকেটে দেখা যায় কবির প্রতিকৃতিসহ তার লেখা বাংলাদেশের রণসংগীতের চারটি চরণ এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার দুটি চরণ।

এরপর ১৯৯৯ সালে কাজী নজরুল ইসলামের শততম জন্মবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তার সম্মানে ডাকটিকেট প্রকাশ করেছিল। সেই ডাকটিকেট ছিল ৬ টাকা মূল্যমানের। বর্ণিল সে ডাকটিকেটে ‘মানুষ’ কবিতার অংশ বিশেষ ছিল। ভারতের ডাক বিভাগও কাজী নজরুল ইসলামের শততম জন্মবর্ষ স্মরণীয় করে রেখেছে তিন রুপি মূল্যমানের একটি ডাকটিকেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান ডাক বিভাগ থেকে প্রকাশিত ডাকটিকেটে কবির যে প্রতিকৃতি ব্যবহৃত হয়েছিল, ভারতীয় ডাক বিভাগও একই প্রতিকৃতি বেছে নেয়। কিন্তু এই দুটি প্রতিকৃতিতে বেশ সূ² একটা পার্থক্য ছিল। প্রথমটিতে দৃঢ় নজরুলকে দেখা গেলেও ভারতীয় ডাক বিভাগের ডাকটিকেটে নজরুলকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

২০০৪ সালের ৩ জুন ইরান-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব উপলক্ষে প্রকাশিত ১০ টাকা মূল্যের দুটি আলাদা ডাকটিকেটে স্থান পেয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম ও কবি হাফিজ সিরাজী। এরপর বিদ্রোহী কবিতা রচনার ৯০ বছর পূর্তিকে ঘিরে ‘আন্তর্জাতিক নজরুল সম্মেলন-২০১১’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ২০১১ সালে নজরুলের চারটি ডাকটিকেটসহ একটি ‘স্মারক পাতা’ প্রকাশ করে। স্মারক পাতায় কবিতার ব্যবহার এ দেশের ডাক প্রকাশনায় অনন্য মাত্রা যোগ করে।

১৯৭২ সালের ২৪ মে কবির ৭৩তম জন্মদিনের এক দিন আগে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ভারতের কলকাতা থেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২০২২ সালের ২৪ মে ছিল এর সুবর্ণজয়ন্তী। এ উপলক্ষে সেদিন ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকেট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড ও একটি বিশেষ সিলমোহর প্রকাশ করে ডাক অধিদপ্তর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App