বই উৎসব বাতিল
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
গত ১৫ বছর ধরে ১ জানুয়ারি দেশে বই উৎসব হয়ে আসছে। এদিন শিক্ষার্থীরা খালি হাতে স্কুলে আসে এবং নতুন বই নিয়ে বাড়ি ফেরে। সেই রেওয়াজ এবার বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী ১ জানুয়ারি দেশে বই উৎসব হচ্ছে না। এর বিপরীতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে।
এদিকে বই উৎসব বাতিলের কারণ হিসেবে দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রায় পোদ্দারের মতে, ছাপতে বিলম্ব হওয়াই বই উৎসব বাতিলের মূল কারণ। অপরদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলেছে, টাকা সাশ্রয় করার জন্য উৎসব বাতিল করা হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই উৎসব টেনে নিতে চায় না বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এ কারণে এটি বাতিল করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আগেই মৌখিকভাবে বই উৎসব বাতিলের কথা জানানো হয়েছিল। কেন বাতিল হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উৎসব আয়োজন করতে প্রচুর টাকা খরচ হয়। এই টাকা সাশ্রয় করতে উৎসব বাতিল করা হয়েছে। তবে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীরা যাতে বই পায় এবং সেই বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়- সেটাই সরকার চাইছে।
এদিকে বই ছাপাতে বিলম্ব হওয়ায় ১ জানুয়ারি বই উৎসব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তবে প্রাথমিকের নতুন বই জানুয়ারির মধ্যেই বিতরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল
রবিবার সকালে খুলনার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, নতুন পাঠ্যপুস্তকে থাকছে জুলাই-আগস্টের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি। বাইরের একটি দেশে বই ছাপার কথা ছিল। ৫ আগস্টের পরে সেই টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বানের ফলে বই ছাপাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এ জন্য বই বিতরণে কিছুটা দেরি হলেও প্রাথমিকের বই জানুয়ারির মধ্যেই বিতরণ করা সম্ভব হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের ওপরে কিছুটা বাড়তি চাপ পড়বে, এটি ঠিক। এটি মেনে নিতে হবে। তার কারণ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশে সব ক্ষেত্রেই একটি প্রভাব পড়ে। যেটি শিক্ষা ক্ষেত্রেও পড়েছে। এটি মেনে নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, যে সব বিদ্যালয়ে খুব কমসংখ্যক শিক্ষার্থী আছে, সেগুলোকে পার্শ্ববর্তী স্কুলের সঙ্গে একীভূত করার চিন্তা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গণিতে দক্ষ করে তুলতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট নিয়োগের ২০ শতাংশ গণিত ও বিজ্ঞানের বিষয়গুলো থেকে পাস করাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। গাইড বই ও প্রাইভেট কোচিংয়ের বিষয়টি নিরুৎসাহিত করা হবে। ধ
