২২ হাজার কোটি টাকা ছেপেছে সরকার, কোনো সংকট হবে না
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাপিয়ে ছয়টি দুর্বল ব্যাংককে সহায়তা দেয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আরো দেয়া হবে। আগামী রবিবার থেকে আর সংকট হবে না। কোনো গ্রাহকই ব্যাংক থেকে টাকা না পেয়ে ফেরত যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
গভর্নর আরো বলেন, আমি বলেছিলাম টাকা ছাপাব না। কিন্তু সেটা থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছি। বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সেই টাকা আবার তুলে নিয়ে আসব। কিন্তু মনিটরি পলিসি আগের মতো টাইট থাকছে। এখানে নেট মানি ক্রিয়েশন হচ্ছে না। একদিকে সহায়তা করা হচ্ছে, অন্যদিকে বন্ডের মাধ্যমে তুলে নিচ্ছি। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এই সহায়তা দেয়া হবে। আমাকে ডিপোজিটর ও মূল্যস্ফীতি দুটিই রক্ষা করতে হবে। টাকা ছাপাব না বলেছিলাম। কিন্তু মানুষের অবস্থার কি পরিবর্তন হয় না?
আগের সরকারও টাকা ছাপিয়ে সহায়তা করেছিল, আবার এখনো দেয়া হচ্ছে। তাহলে তফাৎ কী? এমন
প্রশ্নের উত্তরে গর্ভনর বলেন, ব্যাংক থেকে এখন আর টাকা চুরি হচ্ছে না। আগে টাকা ছাপিয়ে সহায়তা দেয়ার পর টাকা বাইরে চলে গেছে। কিন্তু এখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আগে টাকা দেয়া হলেও কোনো উন্নতি হয়নি প্রবলেম ব্যাংকগুলোর। কিন্তু এখানে ফান্ডামেন্টাল পরিবর্তন হয়েছে। ব্যাংকের বোর্ড চেঞ্জ হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে তদারকি করা হচ্ছে। এস আলমের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গভর্নর বলেন, তিনি কী বলেছেন তা নিয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই। কিন্তু সব অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডেপুটি গভর্নরদের পদত্যাগ চেয়েছেন কেউ কেউ- এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাকে কেউ চাপ দিলে চাকরি ছেড়ে চলে যাব। আমি কোনো কিছু বরদাশত করব না। বিগত দিনে যারা অনিয়মে যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, সামনের দিকে তাকাতে হবে। আমাদের পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নিদিষ্ট অভিযোগ না পেলে আমি নিজ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেব না। এখানে দলাদলি আছে। লাল, নীল দলের প্রতিনিধিত্ব না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হয়ে কাজ করেন।
বর্তমানে ব্যাংক খাতের ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর কোন ইচ্ছে আমার নেই। হয়তো ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। কিন্তু কোন তথ্য গোপন করা হবে না। এখনো সব চিত্র সামনে আসেনি। তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আবার কাজ করছি। খেলাপি ঋণ যতই হোক না কেন, আগে সঠিক তথ্য নিয়ে তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ব্যাংক খাত যা খারাপ হওয়ার তা আগেই হয়েছে। কিন্তু সঠিক অ্যাকাউন্টিংয়ের অভাব ছিল। সেটাকে আমরা সঠিক করার চেষ্টা করছি।
তিনি আরো বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেয়া হলে ব্যাংকে শৃঙ্খলা আসবে না। অনেক আইন ছিল কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আরো শক্তিশালী করার কাজ চলছে। আশা করি কাজ হবে।
প্রসঙ্গত, নগদ টাকার অভাবে গ্রাহকের চাহিদা মত টাকা দিতে পারছে না ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ?্যাল ইসলামী ব্যাংক, গেøাবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক। প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজে গ্যারান্টার হয়ে সবল ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে দুর্বল এসব ব্যাংককে সহায়তার পদক্ষেপ নেয়। কয়েক দফায় সাত হাজার কোটি টাকার মত দেয়া হয়। তবে ব্যাংকগুলোর চাহিদার তুলনায় তা ছিল খুবই কম। এমন প্রেক্ষাপটে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে সহায়তা কথা জানালেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।
