তিন ইস্যুতে অস্বস্তি বিএনপির
রুমানা জামান
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
- সংস্কার-নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে সংশয়
- খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়ে ধোঁয়াশা
- তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন কবে
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খানিকটা অস্বস্তিতে পড়েছে শিগগির ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা দল বিএনপি। মূলত তিন ইস্যুতে তৃণমূলের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির দিক থেকে ‘যৌক্তিক’ সময়ে সংস্কার শেষ করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার তাগিদ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা নেই। লন্ডনে নির্বাসিত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও দেশে ফেরার বার্তা নেই। এমনকি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিদেশযাত্রা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেশ পরিচালনায় দুই মাসের কার্যক্রমের কোনো কোনো বিষয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে জোর সমালোচনা করে তাদের সঙ্গে মতভিন্নতায় যেতে চায় না বিএনপি। আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পাদনে সরকারকে যৌক্তিক সময় দিয়ে সহযোগিতা করার নীতিগত অবস্থানে থেকে অতি দ্রুত একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ চায় দলটি।
সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিএনপিতে। দলটি চায় অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার শুধু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সংস্কারকাজ সম্পন্ন করবে। এর বাইরে সংবিধান সংশোধনসহ রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারকাজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জাতীয় সংসদে করার পক্ষে তারা। একই সঙ্গে প্রশাসনে সচিব পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও রদবদলের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় দলটি।
বিএনপি মনে করছে, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে প্রয়োজনীয় সংস্কারে লম্বা সময় দেয়ার কোনো মানে নেই। সংস্কার নিয়ে দলটির নেতাদের ভাষ্য- সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেসব ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন সেগুলো হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও বিচার বিভাগ। আর সংবিধান সংস্কারের কাজ নির্বাচিত সরকারের হাতে থাকতে হবে। ফলে নির্বাচন, সংস্কার ও সময় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে একটি রোডম্যাপ চান বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। দলটির নেতাদের মতে, রোডম্যাপ ঘোষণার পরপরই নির্বাচনমাফিক প্রস্তুতি ও নানা বিষয়ে পরিকল্পনা করা সহজ হবে। এককভাবে না জোটগত নির্বাচন করবেন- সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেও সুবিধা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপির মতে, এসব কমিশন পুরোপুরি গঠনের কাজ শেষ করতে আরো মাসখানেক সময় লাগতে পারে। এরপর পরবর্তী তিন মাসে কমিশন তাদের রিপোর্টগুলো চূড়ান্ত করবে। তারপর রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সেক্টরের মানুষের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত নেবে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর প্রতিবেদন চূড়ান্ত হবে। দলটি আশা করেছিল, কমিশন গঠনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সরকার প্রস্তাব চাওয়া হবে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, এসব প্রক্রিয়া ছয় মাসের মধ্যে শেষ হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের জন্য খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। তাই ‘দ্রুত নির্বাচন’ ইস্যু জোরালে করতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়ত সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। গত শনিবার ঝিনাইদহে দলীয় সমাবেশে ‘জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকারই কেবল গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই সরকারের প্রতি আমাদের সমর্থন ও আস্থা ছিল, আজও আছে। তবে তাদের প্রতি আমাদের আস্থাকে প্রশ্নহীন রাখার চ্যালেঞ্জ তাদেরকেই নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহসাচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোরের কাগজকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে এখন যারা আছেন; তারা আন্তরিক, যোগ্য মানুষ। তবে তারা কী কী কাজ করতে চান সেটা আরো দৃশ্যমান হতে হবে। জনগণের সামনে সমস্ত কিছু রোডম্যাপ আকারে উপস্থাপন করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার এমন একটি রোডম্যাপ দেয়া উচিত যেখানে স্পষ্ট হবে কীভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে জনগণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে সামনের দিকে এগোবেন। তবে তাদের (অন্তর্বর্তী সরকারের) দৃষ্টিভঙ্গিটা আমার কাছে খুব পরিষ্কার নয়, কেউ চায় এখনই তারা সংস্কার করে দিয়ে যাবে। কেউ চায়, যে সংবিধান আছে, তার মধ্য থেকেই প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে। অস্পষ্ট কোনো জিনিসই ভালো নয়।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই সরকারের প্রথম থেকে চেষ্টা করা উচিত ছিল একটি ভালো নির্বাচন কমিশন গঠনে কাজ করা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো কথাবার্তা নেই। তারা কোনো রোডম্যাপ দেয় না। কবে নির্বাচন দেবে তা-ও বলে না। তারা কী সংস্কার করছে- ছয়টি বিষয়ে সংস্কারের কথা বলেছে, অন্যান্য সংস্কারের ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ আছে। আমরা বলতে চাই, এক মাস যথেষ্ট সময়। এখানে (অন্তর্বর্তী সরকার) যারা আছে, তারা দেশের কৃতি সন্তান, তাদের মেধা আছে; তারা বলুক।
তবে সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। আর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুত হলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের সময় নিয়ে সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ। তারা মনে করেন, সরকার আন্তরিক হলে ১৮ মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্ভব। এরপরও সময়ের প্রশ্নে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে কিছুটা উদ্বেগ ও অসন্তুষ্টি আছে। এর কারণ, বিএনপি মনে করে, নির্বাচন যত পেছাবে, তাতে ভোটের মাঠে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু এ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে খুব চাপও দিতে পারছে না। কারণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার শেষে তারপরই নির্বাচন করার পক্ষেও জনমত রয়েছে।
তারেক রহমান ফিরবেন কবে? : রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাধাহীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বিএনপি। কারাগারে আটক থাকা বেশির ভাগ নেতা ছাড়া পেয়েছেন। মুক্তি পেয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরায় এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সরকার পতনের দুই মাস কেটে গেলেও নির্বাসন জীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার কোনো বার্তা এখন পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীকে দিতে পারেননি তিনি। ফলে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তৃলমূল নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জানতে চাইছেন- ‘লিডার কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন?’
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললেও পরিষ্কার কোনো ধারণা দিতে পারেননি তারা। সবাই ঘুরেফিরে যেটা বলার চেষ্টা করেছেন, তার সারকথা হলো ‘তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন। আইনি জটিলতা কাটিয়ে আসতে যতটুকু সময় লাগে, ততটুকু সময় তিনি নেবেন।’ তবে সূত্রের দাবি, একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান চাইলেই হুট করে দেশে ফিরতে পারবেন না। এজন্য দরকার রাজনৈতিক সমঝোতা।
সূত্রমতে, দেশে ফেরার আগে মামলাগুলোর একটা চূড়ান্ত ফায়সালা চায় বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, রাজনীতিতে স্থায়ী মিত্র বা স্থায়ী শুত্রু বলে কোনো কথা নেই। এ প্রসঙ্গে নেতাদের ভাষ্য, বন্ধু যে কোনো সময় শত্রুতে পরিণত হতে পারে। ফলে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছর, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলায় ৯ বছর, অর্থ পাচার মামলায় সাত বছর, মানহানি মামলায় দুই বছরের সাজা নিয়ে দেশে ফেরার ঝুঁকি নেবেন না তারেক রহমান।
সূত্রমতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি নির্ঝঞ্ঝাট করতে বাংলাদেশে একটি আইনজীবী প্যানেল এবং লন্ডনে তারেক রহমান উপদেষ্টা পরিষদ একযোগে কাজ করছে। যেহেতু তিনি অ্যাসাইলাম নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, সেহেতু আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে তবেই তিনি নিজ দেশে ফিরতে পারবেন। এ কারণে তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের খুব বেশি কৌতূহলী না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তারেক রহমান প্রস্তুতি নিচ্ছেন; তার মামলাগুলো ক্লিয়ার করা জন্য। আমরা চাই তিনি আইনগতভাবে শুদ্ধ হয়ে তবেই দেশে ফিরে আসুন। এখানে আমরা চাপ দিলে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ অর্ডারে’ হয়তো তাকে মুক্তি দিতে পারে; তবে আদালতের মাধ্যমে তিনি মুক্ত হয়ে আসুন সেটাই ভালো হবে। আমাদের প্রত্যাশা তিনি দায়মুক্ত হয়েই দেশে ফিরবেন।
বিএনপির আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানান, তারেক রহমানের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সম্মতি পেলেই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে তারেক রহমানের সাজা স্থগিতের আবেদন করা হবে সরকারের কাছে। তবে দলটির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আইনি পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে ফিরবেন না তারেক রহমান। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যে কারণে তার বিরুদ্ধে যেসব মামলার রায় হয়েছে, সেগুলো তিনি আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবেন। আর যেগুলোর রায় হয়নি, সেগুলোর বিষয়ে আইনগতভাবে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। এছাড়া তারেক রহমান কবে ফিরবেন সে সিদ্ধান্তও তিনি নিজে নেবেন বলে জানান কায়সার কামাল।
খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়েও ধোঁয়াশা : ২০২০ সালে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া যায়নি। পরিবার থেকে বারবার আবেদন করলেও ফিরিয়ে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেন রাষ্ট্রপতি। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে আর কোনো বাধা নেই তার। বিএনপির পক্ষ থেতে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে নানা অজুহাতে খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট আটকে রেখেছিল পাসপোর্ট অধিদপ্তর। গত ৬ আগস্ট খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার দিন রাতেই তাকে নবায়নকৃত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) দেয়া হয়। তিনি এখন তার বাসভবন ফিরোজায় অবস্থান করছেন। ২ জুলাই তিনি হাসপাতাল ছেড়েছেন। কিন্তু এখনো তার বিদেশযাত্রার কোনো খবর নেই। এ নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে চলছে নানা আলোচনা। অনেকে প্রশ্ন রাখছেন মুক্ত খালেদা জিয়া কি তবে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পাননি?
জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা ইংল্যান্ড ও অ্যামেরিকার কয়েকটি হাসাপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। কিন্তু লম্বা সময় ফ্লাই করার মতো শারীরিক ফিটনেস এখনো তার আসেনি। তিনি সুস্থ আছেন। কিন্তু ফ্লাই করার মতো ফিটনেস তার নেই। আমেরিকা নিতে হলে তাকে ১৮-২০ ঘণ্টা ফ্লাই করতে হবে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিলে ফ্লাই করার সময় তো চাপ পড়বে। সেই চাপ তিনি নিতে পারবেন কিনা, আবার ওঠানামার ধকলও আছে। তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। আমরা তাদের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় আছি।
