শক্তি ও অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ এগিয়ে
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেন্ট ভিনসেন্টে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশের মোকাবিলা করবে নেপাল। একই দিন সকাল সাড়ে ৬টায় সেন্ট লুসিয়ার শ্রীলঙ্কা লড়বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এ দিন ফয়সালা হবে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পর দ্বিতীয় দল হিসেবে কে সুপার এইটে যাবে। টাইগাররা শ্রীলঙ্কা এবং নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে। নেপালকে হারিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা সুপার এইট নিশ্চিত করতে মরিয়া। এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ৩ ম্যাচেই দারুণ খেলেছে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টাইগাররা লড়াই করে হেরেছে। ভাগ্য সহায়ক ছিল বলে ওই ম্যাচ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অ্যাম্পয়ার ভুল না করলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।
এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ-নেপাল একবার মুখোমুখি হয়েছে। সেটি ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচে নেপালকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১ রানে হেরে হাথুরুসিংহের শিষ্যদের হারানোর হুঙ্কার দিয়েছে নেপাল। তারা জয় প্রত্যাশা করতেই পারে। তবে শক্তি ও অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ এগিয়ে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ছাড়া টাইগার ব্যাটার সবাই কম-বেশি রানে রয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান রানে ফিরেছেন এটা স্বস্তির ব্যাপার। নেপালের বিপক্ষে শান্তর রানে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করতে নেমেছিলেন শান্ত। নেপালের বিপক্ষে ৪ থেকে ৫ নম্বরে পজিশনে শান্ত ব্যাটিং করলে ভালো হবে। নতুন বলে যেহেতু রান পাচ্ছে না সেহেতু একটু নিচে নেমে ব্যাটিং করে দেখতে পারে শান্ত।
হিমালয়কন্যা খ্যাত নেপালের বিপক্ষে টাইগারদের ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে পারেন তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন দাস। এরপর ওয়ান ডাউনে নামবে তাওহিদ হৃদয় তারপর সাকিব আল হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
এ মুহূর্তে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা বেশ ছন্দে রয়েছে। এ ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ম্যাচ জিতলে টাইগারদের সুপার এইট নিশ্চিত। শান্তবাহিনীকে এ ম্যাচ জিততেই হবে। পরিকল্পনামাফিক খেলতে পারলে নেপালের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবে হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।
নেপালের বিপক্ষে আমি একাদশে পরিবর্তন না আনার পক্ষে। ডাচদের বিপক্ষে উইনিং কম্বিনেশন না ভাঙাই ভালো।
শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩ পেসার এবং ৩ স্পিনার নিয়ে খেলেছে। নেপালের বিপক্ষেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। আমাদের বোলাররা দারুণ বল করছে। ১২৪, ১১৪ ও ১৩৫ রানে প্রতিপক্ষকে আটকে রেখেছে। সেন্ট ভিনসেন্টের উইকেটে বল টার্ন করে এখানে স্পিনাররা ফায়দা লুটতে পারবে। নেপালের ব্যাটাররা স্পিনে দুর্বল।
টাইগার ব্যাটাররা পজেটিভ ক্রিকেট খেললে ম্যাচ জেতা সহজ হবে। বল টু বল খেললেই রান আসবে। সিঙ্গেলের বাসনায় খেলতে থাকলেই বাউন্ডারি অটোমেটিক আসবে। নেপালকে খাটো করে দেখার কিছু নেই। ওদের বোলিং মোটামুটি ভালো। টাইগাররা আগে ব্যাট করলে ১৭০ প্লাস রান করতে হবে।
সকাল সাড়ে ৬টায় সেন্ট লুসিয়ার শ্রীলঙ্কা লড়বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে। সিংহলিজরা চাইবে শেষ ম্যাচ জিতে বাড়ি ফিরতে। ডাচরা জিতলে ৪ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট হবে ৪। বাংলাদেশ যদি নেপালের বিপক্ষে হারে তাহলে টাইগারদের পয়েন্টও হবে ৪। সেক্ষেত্রে রানরেটে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই সুপার এইটে খেলবে। টাইগার সমর্থকদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ নেপালকে হারিয়ে সুপার এইটে যাবে।
