ড্রেজিংয়েও মিলছে না সুফল
নাব্য সংকটে লঞ্চ ভিড়ছে না মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম ঘাটে
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : নাব্য সংকটের কারণে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম (কাঠপট্রি) ঘাটে লঞ্চ চলাচলে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। এক তলা বা দ্বিতলবিশিষ্ট কোনো যাত্রীবাহী লঞ্চ এখন আর এখানে ভিড়তে দেখা যায় না। এক সময়ের ব্যস্ততম এই নৌবন্দরটিতে যাত্রী সংকটে এখন নীরবতা বিরাজ করছে। তাছাড়া দূরপাল্লার লঞ্চগুলো এই বন্দরে নোঙ্গর করত। আর যাত্রীরাও এই ঘাট থেকে তাদের গন্তব্যে যেতে পারতেন। ছোটো, মাঝারি আর দ্বিতলবিশিষ্ট লঞ্চ এই ঘাটে অহরহ ভেড়ানো থাকত। মিরকাদিম ঘাট থেকে ঢাকার ইসলামপুর, বাদামতলী, বঙ্গমার্কেট, সদরঘাট এবং দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত এবং পণ্য আনা নেয়া করতেন এখানকার মানুষ।
নাব্য সংকট দূর করে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে টানা কয়েক বছর নদী খননের কাজ করে বিআইডব্লিওটিএ নারায়ণগঞ্জ। তাতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হলেও বন্দরের কোনো কাজে আসেনি। পন্টুন ধলেশ্বরীর মূল নদীতে স্থানান্তর করা হলে প্রতি বছর এখানে ড্রেজিং করতে হবে না। খরচ হবে না সরকারের বাড়তি অর্থ। একই সঙ্গে পয়েন্টের দুপাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করা গেলে লঞ্চ চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না বলে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মহল ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা।
ঘাট ইজারাদার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নাব্য সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার কোনো লঞ্চ এ ঘাটে ভিড়ছে না। মাঝনদী থেকে ট্রলারে করে যাত্রী ওঠানামা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে শত শত মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাছাড়া জোয়ারভাটার আগমনের উপর নির্ভর করে মাত্র কয়েকটি ছোট লঞ্চ চলাচল করে বলে জানা যায়।
সরজমিন মিরকাদিম লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চঘাটে সুনসান নীরবতা।
ঘাট থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে না। এমনকি কোনো লঞ্চ ঘাটে ভিড়ছে না। যে ঘাটে ভোর থেকে রাত অবদি মানুষের কোলাহল ছিল সেই ঘাটে এখন কোনো লোকজন নেই।
যাত্রীরা অভিযোগ বলেন, নাব্য সংকটে কোনো লঞ্চ এখানে ভিড়ে না। আমরা প্রায় সময় এসে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের মতো শত শত সাধারণ যাত্রী ফিরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় ভিন্নপন্থায় গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এদিকে লঞ্চ ঘাটে আসার চ্যানেলে পানি কোথাও ১০ ফুট আবার কোথাও ৫ ফুট গভীর। যেখানে লঞ্চ ভিড়ানো অসম্ভব।
তাছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের মাঝনদী থেকে ট্রলার দিয়ে ঘাটে এসে নামতে হচ্ছে। একদিকে মিরকাদিম লঞ্চঘাট থেকে প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অন্যদিকে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিওটিএ (নারায়ণগঞ্জ) উপপরিচালক মো. নাহিদ হোসেন ভোরের কাগজকে জানান, মিরকাদিম লঞ্চঘাটের নাব্য সংকটের বিষয়টি আমরা শুনেছি। আমরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব, যেন মিরকাদিমে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
