সর্পগন্ধা
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সর্পগন্ধা তথা সর্পমূল একটি গুল্মজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ গাছ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর ব্যবহার আছে। এই গুল্মটির পাতা ছোট ছোট লম্বা ও পাতার ডগা সরু। ফুল প্রথম অবস্থায় সবুজ রঙের হলেও পাকলে বেগুনি-কালো রঙের হয়। মূলের রং ধূসর ও গন্ধ কাঁচা তেঁতুলের মতো। সারা বছরই গাছে ফুল ফোটে ও ফল ধরে। চড়ক সংহিতাতেও এর ভেষজ ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়। সর্পগন্ধার বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে রাউলভলফিয়া সার্পেন্টিনা। রাউলভলফিয়া ১৬শ শতাব্দীর একজন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী এবং ভেষজ চিকিৎসক। তার নামেই উনিশ শতকে এই প্রজাতির নামকরণ করা হয়। একে সংস্কৃতে চন্দ্রিকা, হিন্দিতে ছোটা চাঁদ, উর্দুতে ধনবরুয়া ইত্যাদি বলা হয়। ভারতবর্ষের সর্বত্র জন্মে। বাংলাদেশেও জন্মে প্রচুর। কোথাও কোথাও চাষ করা হয়। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে মাটি খুঁড়ে শেকড় তোলা হয়। শেকড়গুলো পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিয়ে তারপর ব্যবহার করা হয়। চীন দেশের ৫০টি মৌলিক ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে সর্পগন্ধা একটি। এটি একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যা ঊর্ধ্বমুখী ঝোপ আকারে জন্মে। উচ্চতা ৩০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার। প্রতি গ্রন্থিতে ৮ থেকে ২০ সেন্টিমিটার দীঘল উজ্জ্বল সবুজ বর্ণের পাতা জন্মে, যা বৃত্তাকারে কাণ্ডের চারপাশে সাজানো থাকে; তবে শীর্ষ ভাগে সরু হয়ে ছোট বৃন্তের মতো দেখায়। ফুল ফোটে গুচ্ছাকারে। ফুল ১.৫ সেন্টিমিটার লম্বা আর পাপড়িগুলো সাদা বা হালকা গোলাপি, একটু বেগুনি ছোপ থাকে। পুষ্পবৃন্ত গাঢ় লাল বর্ণ হয়ে থাকে। ক্ষুদ্রাকৃতির ফল জন্মে, যা পেকে গেলে কালচে দেখায়। যে বাড়িতে সর্পগন্ধা থাকে সে বাড়িতে সাপ আসে না। গাছের মূল নানা প্রকার রোগের চিকিৎসায় লাগে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজে আসে। সর্পগন্ধার মূল চুর্ণ করে অল্প পরিমাণ খেলে উত্তেজনা প্রশমিত হয় ও ঘুম ভালো হয়। দৈহিক দুর্বলতা ও মানসিক অবসাদজনিত রোগেও মূলের চূর্ণ ব্যবহৃত হয়। স্কিটসোফ্রিনিয়ার রোগীরা এতে উপকৃত হয়। সাধারণ জ¦র এবং পেটের গোলমালেও উপকারী। তবে ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, গ্যাসট্রিক আলসারে এর ব্যবহার ক্ষতিকর।
