×

অপরাধ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসছে প্রকৃত ঘটনা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

পুলিশের তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসছে প্রকৃত ঘটনা

ছবি: শের জাহান মমিনী, হামিদুল ও আইয়ুব আলী

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার সিহারা গ্রামের মতি মিয়া (৬০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে মামলার এজাহারে তথ্যের ভয়াবহ গরমিল, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে অসংলগ্নতা এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের পেছনে লুকানো প্রকৃত সত্য খুঁজে পেতে শুরু করেছে পুলিশ। ব্যক্তিগত শত্রুতার বশবর্তী হয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এজাহারে সাজানো তথ্য দেওয়ার প্রমাণ খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে।

মামলার এজাহারে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের চরের কান্দা এলাকার একটি ড্রেন থেকে কাদা মাটিতে পোতা অবস্থায় পাহারাদার মতি মিয়ার জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি স্থানীয় ইয়াকুব মিয়ার মাটি কাটার ভেকু (এক্সকাভেটর) পাহারার কাজ করতেন। ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি হাওরে পাহারার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন।

লাশ উদ্ধারের পরপরই নিহতের স্ত্রী গোলবাহার এবং স্বজনদের দেওয়া প্রাথমিক জবানবন্দির সাথে পরবর্তীতে দায়ের করা এজাহারের তথ্যের ‘আকাশ-পাতাল’ পার্থক্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাদী পক্ষ যা জানিয়েছিল, তা পুলিশের সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি নং- ১০৩৬, তারিখ: ৩১/১/২৬) নথিবদ্ধ আছে।

বাদীকে থানা পুলিশ সঠিক ও সত্য ঘটনার ভিত্তিতে মামলা করার পরামর্শ দিলেও বাদীপক্ষ কিশোরগঞ্জ আদালতে গিয়ে একটি পিটিশন মামলা (নং- ৬৮/২৬) দায়ের করে, যেখানে প্রতিপক্ষ ফাঁসাতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়িয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে থানায় হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এজাহারে ঘটনার সময় ও প্রত্যক্ষদর্শীর যে বর্ণনা দেওয়া হয়, তার সাথে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল খুঁজে পায়নি পুলিশ। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মতি মিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন, তারা নিজেরাই স্থানীয় ‘হেলিম মেম্বার’ হত্যা মামলার আসামি। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটিই তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, এই দুই পক্ষের মধ্যে এর আগেও তিনটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও কোনোটিরই সুষ্ঠু বিচার হয়নি; বরং প্রতিটি ঘটনাই শেষ পর্যন্ত আপস-মীমাংসার আড়ালে চাপা পড়ে গেছে।

মতি মিয়া হত্যার তদন্তে নেমে কিছুদিন আগে  ‘হেলিম মেম্বার’ হত্যাসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামি আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর সবশেষ রোববার (২৫ মে) কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেয়া ‘আসামীকে পুনঃ গ্রেফতার দেখানোর আবেদন’-এ ওই আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আর তারও কিছুদিন আগে শের জাহান মমিনীর লাটিয়াল হিসেবে পরিচিত মাদক ব্যাবসায়ী ও হেলিম হত্যাসহ একাদিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হামিদুলকে মতি মিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ। হামিদুল বর্তমানে এই মামলায় কারাগারে রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মতি মিয়ার স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলায় এক নম্বর আসামি হিসেবে যাকে দেখানো হয়েছে, সেই শাহ আলমের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি শের জাহান মমিনীর হাটুরিয়া নদী জলমহাল বরাদ্দ নিয়ে বিবাদ চলছে। গেলো বছর জলমহালটি সরকারি টেন্ডার নিয়মাবলী অনুসরণ করে শাহ আলম বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই, শের জাহান মমিনী ও তার লোকজন শাহ আলমকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার এমনকি হত্যা করার হুমকি দিয়ে আসছিলো। মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো আইয়ুব আলী ওই শের জাহান মমিনীর ভাড়াটে খুনী হিসেবে এলাকায় বহুল পরিচিত।

মতি মিয়া হত্যায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো আইয়ুব আলী ও হামিদুল উভয়েই এই শের জাহান মামিনির নিকট আত্মীয় ও পরামর্শদাতা এবং হত্যসহ একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। আর শেখ জাহান মমিনি নিজেও একাধিক হত্যাসহ অনেকগুলো মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। মূলতঃ প্রভাবশালী ব্যক্তি শের জাহান মামিনিই মতি মিয়া হত্যার মূল পরিকল্পণাকারী এবং ওই হত্যা মামলার বাদীকে বিভিন্ন কৌশলে হাতে নিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের নামে মামলা দায়ের করানো প্রধান কারিগর বলে মনে করেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা।

মতি মিয়া হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, মামলাটি শুরু থেকেই জটিল এবং অনেক অসংগ্ন তথ্যে ভরা। এজন্য শুরুতে মিঠামইন থানা এই মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীপক্ষ আদালতে গিয়ে মামলার এজাহার জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশে সেই তদন্তও এই থানাকেই করতে হচ্ছে, আর তাতে একে একে অনেক ভেতরের তথ্য বেরিয়ে আসছে।

যে কোনো মূল্যে মতি মিয়া হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে বলেও নিশ্চিত করেন ওসি লিয়াকত আলী।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

প্রশাসনের তিন অতিরিক্ত সচিবের পদোন্নতি

প্রশাসনের তিন অতিরিক্ত সচিবের পদোন্নতি

কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

পুলিশের তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসছে প্রকৃত ঘটনা

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে হত্যাকাণ্ড পুলিশের তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসছে প্রকৃত ঘটনা

মেঘনায় দুই নারী পকেটমার গ্রেপ্তার

মেঘনায় দুই নারী পকেটমার গ্রেপ্তার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App