খাওয়া না কমিয়ে যে উপায়ে কমবে ওজন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ওজন কমাতে হলে খাওয়ায় রাশ টানাই সহজ পন্থা বলে মনে করেন অনেকে। শুরু হয় কড়া ডায়েট। কেউ ভরসা রাখেন প্রোটিনে, কেউ আবার পরিমিত আহারে। তবে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা মনে করাচ্ছেন, ওজন কমানো মানে খাওয়া খুব কমিয়ে ফেলা নয়। বরং পরিমিত আহারের সঙ্গে পুষ্টিতে নজর দেওয়া জরুরি।
মেদ গলাতে ক্যালোরির অঙ্কেই বিশ্বাস করেন অনেকে। ক্যালোরি মেপে খাওয়াই সহজ উপায় বলে ভাবেন অনেকে। খাদ্যাভ্যাসে জুড়ে নিন বাড়তি প্রোটিন। চিকিৎসকরা জানান, ওজন সব সময় কড়া ডায়েট করলেই কমে না, বরং কৌশলে ফাইবারের মাত্রা বাড়ালেও বাড়তি লাভ হতে পারে।
ওজন বৃদ্ধির কারণ শুধুমাত্র অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন নয় বরং এর সঙ্গে জুড়ে থাকে ব্যক্তি বিশেষের শারীরিক অবস্থাও। খিদে এবং খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে তৃপ্তির অনুভূতিও।
ভুল কোথায় হয়?
লোভনীয়, মুখরোচক, প্রক্রিয়াজাত খাবারে ক্যালোরি বেশি থাকে। কিন্তু তা খাওয়ার পরেও পেট ভরে না। মনে হয় আরো খেলে ভালো হত। সেই কারণেই খাবারে থাকা দরকার ফাইবার। ফাইবার খাবার পরিপাকের গতি কমিয়ে দেয়, খাবার অনেক ক্ষণ পাকস্থলীতে থাকে। তাই পেট বেশ ভর্তি আছে এমন বোধ হয়।
উচ্চ ফাইবার জাতীয় খাবার হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। অন্ত্র থেকে নিঃসৃত হয় জিএলপি১ নামক হরমোন। এই হরমোনই খাওয়ার পরে মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পাঠায়। ফলে পেট ভরে খাওয়ার অনুভূতি হয়। এ ছাড়া, ফাইবার জাতীয় খাবার খেলে পিওয়াইওয়াই হরমোন নিঃসৃত হয়, যা খিদে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আরো পড়ুন : ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে কার্যকর খাদ্যাভ্যাস
অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ফাইবার জাতীয় খাবার ভেঙে শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে, যা খিদে নিয়ন্ত্রণে এবং ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি নিয়ন্ত্রণে অর্থাৎ ইনসুলিনের কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
পেট ভালো রাখা জরুরি
- ওজন কমানো মানে খাওয়া কমানো নয়, বরং সঠিক খাবার এবং পুষ্টির সমন্বয় বজায় রাখা।
- দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যা রাখতে হবে
- তিসি, চিয়া, কুমড়োর বীজ
- বিন, ডাল জাতীয় শস্য
- উচ্চ ফাইবার জাতীয় ফল (বেরি এবং অন্যান্য ফল)
- অন্তত দু’রকমের সবজি প্রতি দিন
আর কী জরুরি:
- মহিলাদের জন্য দৈনিক ২৫ গ্রাম, পুরুষদের ৩০ গ্রাম ফাইবার জাতীয় খাবার খাওয়া
- সপ্তাহে আরও ৫ গ্রাম ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায়
- ফাইবার খাওয়ার পাশাপাশি জল খাওয়া বৃদ্ধি করতে হবে
খাওয়ার পরে হাঁটা জরুরি
শুধু ফাইবার নয়, দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ, কার্বোহাইড্রেটও জরুরি। তবে ফাইবার যেন থাকে, তা খেয়াল রাখা দরকার। ফাইবার জাতীয় খাবার বিপাকহার উন্নত করতে সাহায্য করে, যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
