সুস্থ ও মজবুত দাঁত, এক উজ্জ্বল হাসির চাবিকাঠি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দর হাসি মানুষের ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই হাসির মূল ভিত্তি হলো সুস্থ ও সবল দাঁত। সঠিক যত্ন এবং খাদ্যাভ্যাসের অভাবে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ এবং মুখে দুর্গন্ধের মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আধুনিক জীবনযাত্রায় দাঁত ভালো রাখার কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে ব্রাশ করা
দাঁত পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দিনে অন্তত দুবার ব্রাশ করা।
সময়: সকালে নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই ব্রাশ করতে হবে।
পদ্ধতি: জোরে জোরে ঘষার বদলে ওপর-নিচ করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন। অন্তত ২ থেকে ৩ মিনিট সময় নিন।
জিহ্বা পরিষ্কার: দাঁতের পাশাপাশি জিহ্বাও পরিষ্কার রাখা জরুরি, কারণ জিহ্বার আস্তরণে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে যা মুখে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
২. ফ্লসিংয়ের গুরুত্ব
ব্রাশ দাঁতের উপরিভাগ পরিষ্কার করলেও দুই দাঁতের মাঝখানের অংশে পৌঁছাতে পারে না। তাই প্রতিদিন অন্তত একবার ডেন্টাল ফ্লস (এক ধরনের সুতা) ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করুন। এতে প্লাক জমার ভয় থাকে না।
৩. চিনি ও অ্যাসিডযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং কার্বোনেটেড পানীয় (সফট ড্রিঙ্কস) দাঁতের এনামেলের সবচেয়ে বড় শত্রু। চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়ার সাথে মিশে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতে ক্যাভিটি বা ছিদ্র সৃষ্টি করে। মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর অন্তত জল দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
৪. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার
দাঁত ও হাড় মজবুত রাখতে খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি রাখুন।
দুধ, দই, চিজ এবং পনির ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস।
লেবু, আমলকী বা মাল্টার মতো টক জাতীয় ফলে থাকা ভিটামিন সি মাড়িকে সুস্থ রাখে।
তাজা ফল ও শাকসবজি চিবিয়ে খেলে দাঁতের প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে।
৫. ধূমপান বর্জন করা
ধূমপান কেবল দাঁতকে বিবর্ণ বা হলুদই করে না, এটি মাড়ির রোগ এবং মুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার জন্য তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলুন।
৬. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা
পানি কেবল শরীরের জন্যই নয়, মুখের স্বাস্থ্যের জন্যও অপরিহার্য। এটি মুখকে শুষ্ক হতে দেয় না এবং খাবারের কণা ধুয়ে ফেলতে সাহায্য করে। বিশেষ করে খাওয়ার পর পানি পান করা লালা উৎপাদন বাড়ায়, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে কাজ করে।
৭. নিয়মিত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন
দাঁতে কোনো সমস্যা থাকুক বা না থাকুক, প্রতি ৬ মাস অন্তর অভিজ্ঞ দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে ছোট কোনো সমস্যা থাকলে তা বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে এবং স্কেলিং-এর মাধ্যমে দাঁতকে গভীর থেকে পরিষ্কার রাখা যায়।
