হঠাৎ ঝাপসা দৃষ্টি হতে পারে গুরুতর রোগের ইঙ্গিত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দৃষ্টি হঠাৎ ঝাপসা হয়ে গেলে অনেকেই সেটিকে ক্লান্তি, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা কিংবা ঘুমের অভাবজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ করে এক চোখে আকস্মিক ঝাপসা দেখা দিলে তা কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি চোখ বা শরীরের গুরুতর অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানান, দৃষ্টির হঠাৎ পরিবর্তন শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বড় ধরনের সমস্যার সতর্ক সংকেত হতে পারে।
কখন ঝাপসা দৃষ্টি বিপদের বার্তা?
কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের জন্য দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া কিছু ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসকদের মতে, নিচের কারণগুলো এ ধরনের সমস্যার পেছনে থাকতে পারে—
১. রেটিনাল ডিটাচমেন্ট : চোখের রেটিনা স্থানচ্যুত হওয়া।
২. চোখে স্ট্রোক : রেটিনার ধমনিতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়া।
৩. অপটিক নিউরাইটিস : চোখের স্নায়ুতে প্রদাহ।
৪. অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা : চোখের ভেতরের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।
৫. মস্তিষ্কে স্ট্রোক : অনেক সময় সমস্যা চোখে নয়, বরং মস্তিষ্কে। দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী অংশে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে এক বা দুই চোখেই ঝাপসা দেখা দিতে পারে।
নিজে রোগ নির্ণয় নয়, প্রয়োজন দ্রুত পরীক্ষা
সব ক্ষেত্রে ঝাপসা দৃষ্টি গুরুতর নাও হতে পারে। চোখ শুষ্ক হওয়া, মাইগ্রেন, রক্তে শর্করার ওঠানামা কিংবা চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের কারণেও এমন হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনটি স্বাভাবিক আর কোনটি জরুরি অবস্থা—তা বোঝা কঠিন। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা রক্তনালির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এছাড়া ঝাপসা দেখার সঙ্গে যদি হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে তা মস্তিষ্কে স্ট্রোকের লক্ষণও হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না
১. চোখে তীব্র ব্যথা বা লালচে ভাব।
২. আলোর ঝলকানি বা চোখের সামনে ভাসমান কালো দাগ।
৩. তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমিভাব।
৪. হঠাৎ এক চোখে সম্পূর্ণ দৃষ্টি হারানো।
৫. শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা কথা বলতে অসুবিধা।
কেন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?
চিকিৎসায় দেরি হলে চোখের ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে রেটিনার সমস্যা বা স্নায়ুর প্রদাহ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ী অন্ধত্ব এড়ানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়াকে অবহেলা না করে শরীরের এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
