রমজানে গ্রিন টি পান করুন সঠিক নিয়ম মেনে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চলছে পবিত্র রমজান মাস। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এ সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরকে সতেজ রাখতে শুধু পানি নয়, প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর পানীয়। ইফতারের পর অনেকেই ক্লান্তি দূর করতে চা পান করেন। স্বাস্থ্যসচেতনদের পছন্দের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছে গ্রিন টি।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এ পানীয় শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখে। তবে রমজানে গ্রিন টি পানের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম না মানলে উপকারের বদলে ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকে বলে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদরা।
গ্রিন টি পানের উপকারিতা
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি এটি আর্থ্রাইটিস, আলঝেইমার ও পারকিনসন্স রোগ প্রতিরোধেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। গ্রিন টি হজমক্ষমতা বাড়াতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করা এবং দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি
খাবারের পরপরই পান করা: অনেকেই মনে করেন, গ্রিন টি দ্রুত খাবার হজম করে বা চর্বি কমায়। বাস্তবে খাবারের পরপরই এটি পান করলে প্রোটিন শোষণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার পর অন্তত এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে গ্রিন টি পান করা উচিত।
গরম চায়ে মধু মেশানো: অনেকে চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করেন। তবে অত্যধিক গরম চায়ে মধু মেশালে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে। তাই চা কিছুটা ঠান্ডা হলে তাতে মধু যোগ করাই ভালো।
ওষুধের সঙ্গে গ্রিন টি পান: গ্রিন টি দিয়ে ওষুধ সেবন করলে ওষুধের শোষণ ব্যাহত হতে পারে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওষুধ খাওয়ার জন্য সাধারণ পানি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পান করা: গ্রিন টিতে ক্যাফেইন ও ট্যানিন রয়েছে। দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি পান করলে মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ বা শরীরে আয়রন শোষণে সমস্যা হতে পারে। রমজানে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই কাপ পান করাই যথেষ্ট। সেহরির পর গ্রিন টি না পান করাই ভালো।
একসঙ্গে দুটি টি-ব্যাগ ব্যবহার: বেশি উপকারের আশায় অনেকে এক কাপে দুটি টি-ব্যাগ ব্যবহার করেন। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্যাফেইনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পেটের সমস্যা হতে পারে।
কৃত্রিম স্বাদের চা এড়িয়ে চলা: বাজারে পাওয়া কৃত্রিম স্বাদের গ্রিন টিতে এমন উপাদান থাকতে পারে, যা প্রাকৃতিক গুণ নষ্ট করে দেয়। তাই ভালো মানের সাধারণ গ্রিন টি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তাড়াহুড়ো করে পান করা: ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করলেই গ্রিন টির প্রশান্তিদায়ক গুণ উপভোগ করা যায়। তাড়াহুড়ো করে পান করলে এর পূর্ণ উপকার মেলে না।
সতর্কতা
গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইনের কারণে অতিরিক্ত পানে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ক্যাফেইন সংবেদনশীল ব্যক্তিরা ডিক্যাফিনেটেড গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।
এছাড়া গ্রিন টির নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পেট খারাপের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই রমজানে সুস্থ থাকতে পরিমিত ও সঠিক নিয়মে গ্রিন টি পান করাই শ্রেয়।
