দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি : জনজীবন কঠিন এবং দুঃসহ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ১২:১৬ এএম
বর্তমানে আমাদের দেশের সব মানুষের কাছে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি এক সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে। গত দুই-তিন বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের তফাত দিন দিন বেড়েই চলেছে! এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের জনজীবনকে করে তুলেছে অনেক বেশি কঠিন এবং দুঃসহ। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমাজের মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত দরিদ্র পরিবারগুলো। তাদের জীবনমান কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপরও। পর্যাপ্ত পরিমাণ সুষম খাবার গ্রহণ না করার কারণে কিশোর-কিশোরীদের বড় একটি অংশ কৈশোরকালে নানা জটিলতায় পড়ছে। সেই সঙ্গে শিক্ষা উপকরণ এবং দৈনন্দিন হাত খরচ বেড়ে যাওয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অনেকটাই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। আমাদের সমাজে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’। ঠিক এই অবস্থা হয়েছে বর্তমানে যারা রিকশা চালায়, ঠেলাগাড়ি চালায়, কৃষক, শ্রমিক, মজুর শ্রেণির মানুষের। সারাদিন শ্রম দিয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেতন নিয়ে বাজারে গেলে আসার সময় তাদের পকেটে চায়ের টাকা তো থাকেই না বরং আরো মুদির দোকান থেকে বাকি আনতে হয়। বাজারে গিয়ে ঘরে বাবার অপেক্ষায় থাকা ছোট বাচ্চার জন্য একটা চিপস আনতে পকেটে টাকা না থাকলে সেই ভার একমাত্র বাবারাই বোঝে। বৃদ্ধ মায়ের ওষুধের টাকা না থাকার ব্যথাটা একজন ছেলে কখনো কারো কাছে প্রকাশ করে না। মধ্যবিত্তদের অবস্থা আরো বেশি কঠিন ও দুঃসহ হয়ে উঠেছে। আমাদের সমাজে যারা শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সম্মানজনক একটা পেশায় আছেন, তারা পুরো মাস মিলে বেতন পায় ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা অথবা তার চেয়ে কম। যেখানে বর্তমানে একটা পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজন ২০ হাজার টাকা বা আরো বেশি। সেখানে এরকম পেশায় যারা জড়িত আছে, তাদের বেতন প্রয়োজনের অর্ধেকও পোষায় না। তারা সম্মানের ভয়ে না পারে কারো কাছে চাইতে, না পারে প্রয়োজন মেটাতে। তারা এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। পত্রিকার পাতা খুললে দেখা যায়, চালের দাম বাড়ছে, চিনির দাম বাড়ছে, ওষুধের দাম বাড়ছে, জ¦ালানির দাম বাড়ছে, ডিমের দাম বাড়ছে। এখন পর্যন্ত কমেছে বলে নিউজ শোনা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই এ রকম বাড়ছে বাড়ছে অবস্থা। একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। বর্তমান সময়ে এক দুর্বিষহ জীবন পার করছে সাধারণ মানুষ। খাদ্য সংগ্রহ করতে গেলে বস্ত্র পাচ্ছে না। আবার বস্ত্র সংগ্রহ করতে গেলে খাদ্য পাচ্ছে না। খাদ্য না পেলে অসুস্থ হবে। অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য গেলে ওষুধের দাম বেশি। নিয়মিত খাবার না পেলে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা বিকশিত হয় না। সেখানে ছেলে-সন্তানদের পড়াশোনার বেহাল অবস্থা। প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষা দিতে গেলে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারছে না। শিক্ষা উপকরণ যেগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতা-কলম। এগুলোর দাম অতীতের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। একজন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য এটা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ যারা নিত্যদিন ডিম, আলু, শাক-সবজি খেয়ে জীবন বাঁচায়, তারা এখন সেগুলোর দাম শুনলে আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা। সাধারণ মানুষের জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর সমাধান কারো কাছে আদৌ আছে কিনা জানা নেই। আমাদের বর্তমান সমাজের জন্য দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি একটি অন্যতম বড় সমস্যা। আমরা সবাই এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণগুলো নিয়ে কথা বললেও এর সমাধান নিয়ে কয়জনই বা বলতে পারি? সঠিকভাবে জানাও নেই এর সমাধান কোথায়। এমনভাবে চলতে থাকলে মানুষের জীবনমান যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা অনুমেয়। আমাদের সবার উচিত এই বিষয়ে সচেতন হয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
তাহমিনা তামান্না : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। tamanna.du102@gmail.com
