সংশোধন হচ্ছে টেলিকম নীতিমালা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
ফাইল ছবি
‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা ২০২৫’ সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অংশীজনদের তীব্র আপত্তি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ার আশঙ্কায় এ সংশোধন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নীতিমালা প্রণয়ন করে, যেখানে টেলিকম খাতের সব লাইসেন্সকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হয়।
তবে এটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। পর্যালোচনায় দেখা গেছে—নীতিমালায় ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে মোবাইল অপারেটররা চাইলে টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্কের ব্যবসায়ও যুক্ত হতে পারবে।
বিপরীতে টাওয়ার বা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন কেবল বা আন্তর্জাতিক পরিষেবার লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বর্তমানে টেলিকম খাতের ৮০ শতাংশ রাজস্বই মোবাইল অপারেটরদের দখলে। নতুন নীতিমালায় বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বের ভাগীদার ছোট ব্রডব্যান্ড ও অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্বসংকটে পড়ার আশঙ্কা করছে।
নির্বাচনের আগেই বিএনপি এই নীতিমালার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। গত ৩ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘একতরফা এই নীতিতে বড় কম্পানিগুলো ছোটদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে।
প্রযুক্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় ছোট কম্পানিগুলো টিকে থাকতে পারবে না।’ বর্তমান সরকার সেই উদ্বেগকেই আমলে নিয়ে সংশোধনের কাজ শুরু করেছে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেন, নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে ফাইবার আউটপুট দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার যেন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের হাতে থাকে।
ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন, বড় অপারেটররা সরাসরি না এসে ভিন্ন নামে অবকাঠামো ব্যবসায় ঢুকে পড়ার সুযোগ রয়েছে, যা রোধ করা জরুরি।
সামিট কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলামের মতে, মোবাইল অপারেটররা যদি ফাইবার ব্যবসায় ঢুকে পড়ে, তবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এনআইসিএসপি) ব্যবসা বলে কিছু থাকবে না।
রবির চিফ করপোরেট অফিসার সাহেদ আলম ঢালাও রিভিউর চেয়ে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, তথ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় মিলে একটি ‘ক্লাস্টার’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বর্তমানে এই নীতিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করার কাজ করছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে।
