পানি থেকে উদ্ধারের পরেও প্রাণ ছিল রাহুলের, দাবি ইউনিটের!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার (২৯ মার্চ) ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সকাল থেকে শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন রাহুল ও তাঁর সহকর্মীরা। বিকেলে শুটিং শেষ হওয়ার পর তিনি একাই সমুদ্রে নামেন। সে সময় তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তিনি সৈকতেই ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, জলে নামার পর হঠাৎই রাহুলের পা বালিতে আটকে যায়। ঠিক তখনই ঢেউ এসে আছড়ে পড়লে তিনি ভারসাম্য রাখতে না পেরে ডুবে যেতে থাকেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শ্বেতা মিশ্র চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করেন।
অভিনেতা দিগন্ত বাগচী জানান, হয়তো তিনি সাঁতার জানতেন না, অথবা কোনোভাবে আটকে পড়েছিলেন। যখন তাঁকে উদ্ধার করা হয়, তখনও তিনি জীবিত ছিলেন। অন্যদিকে, রাহুলের গাড়িচালক বলেন, তিনি বারবার সমুদ্রে না নামার জন্য সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু রাহুল সেই কথা শোনেননি।
আরো পড়ুন : মারা গেছেন অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন
পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে তালসারি থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দূরে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সন্ধে ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকেরা জানান, আগেই মারা গিয়েছেন রাহুল।
হাসপাতালে নেওয়ার সময় সঙ্গে ছিলেন ধারাবাহিকটির প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী। তিনি জানান, শুটিং শেষ হওয়ার পর শিল্পীদের একে একে বিদায় দেওয়া হচ্ছিল। এমন সময় খবর পেয়ে দ্রুত সৈকতে পৌঁছে রাহুলকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালে যাওয়ার পথে রাহুলের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং সম্ভবত হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। পথেই টেকনিশিয়ানরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা চালান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।
চন্দ্রশেখর জানান, সোমবার কাঁথি হাসপাতালে রাহুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ দিঘার মর্গে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস রাহুলের মায়ের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সন্তান হারানোর বেদনা কোনো মা সহ্য করতে পারেন না।”
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আপাতত ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, প্রকৃত কারণ জানতে সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
