মধ্যনগরে দুইদিন ধরে চলছে হামলা ও ভাংচুর
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৪, ০৯:১১ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সদরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এবং আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে দূর্বৃত্তরা। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়েও।
সোমবার (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণা প্রচারের পর বিকাল ৩টার দিকে বিএনপি- জামায়াতের ২০০-৩০০ নেতাকর্মী মধ্যনগর বাজারে আনন্দ মিছিল করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল থেকে হামলা, ভাংচুর শুরু করে। হামলাকারীরা ব্যবসায়ী স্বদেশ রায়ের বাসাসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট চালায়।
একইভাবে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে বিএনপি- জামায়াত ও আলেম ওলামা পরিষদের ব্যানারে খণ্ড খণ্ডয মিছিল আসতে থাকে বাজারে। মিছিলকারীদের হামলায় বঙ্গবন্ধু চত্বরের ম্যুরাল ও বিপি স্কুল এন্ড কলেজের ম্যুরাল থেকে জাতির পিতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। হামলা করা হয় সংস্কৃতি কর্মী বিজিত সরকার ও প্রেসক্লাব সভাপতি কুতুবউদ্দিন তালুকদারের বাসায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরো মধ্যনগর বাজার অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বাজারে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।রাস্থা-ঘাটে নেই কোনো জনমানব। তবে মানুষের নিরাপত্তা এখানে চরম হুমকির মুখে বলে জানিয়েছেন মধ্যনগর বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা।
উপজেলার মহিষখলা বাজারেও গত দুই দিনের হামলা এবং সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়সহ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আইন উদ্দীনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাট করছে স্থানীয় বিএনপি- জামায়াত কর্মীরা। এদিন যুবলীগ সভাপতি আইনউদ্দিন এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জালাল উদ্দিনের ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করেছে দূর্বৃত্তরা।
৫ আগস্ট বংশীকুন্ডা বাজারে স্থানীয় বিএনপি- জামায়াত ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে মিছিল করতে দেখা গেছে। তবে পরের দিন দুপুরে দূর্বৃত্তরা বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি কমপ্লেক্সসহ বাজারে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। এছাড়া উপজেলার গড়াকাটাসহ কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ উশৃঙ্খল যুবকদের হাতে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রি নিয়ে মহড়া দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে,িএদিন মধ্যনগর থানার সামনে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে পুলিশকে হিজড়া বলে শ্লোগান দিতে দিতে বাজারে প্রবেশ করে।
