অলিম্পিককে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ আয়ের পথে ফিফা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপকে 'মানবজাতির দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ ইভেন্ট' হিসেবে ঘোষণা করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই ঘোষণা মাঠের খেলার বাইরেও এর পেছনে থাকা বিপুল অর্থকড়ির বিশালতা নিয়েও।
ফিফার সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে যাচ্ছে তারা। এই আয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারই আসবে চলতি বছরে।
এর তুলনায় প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিক গেমসের আয় ছিল মাত্র ৫.২৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, আয়ের দিক থেকে ফিফা এখন অলিম্পিককেও অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সময়ও ফিফার আয় অলিম্পিকের চেয়ে কম ছিল। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আয় বেড়েছিল ১৮ শতাংশ। কিন্তু এবার সেই আয়ের প্রবৃদ্ধি হবে রেকর্ড ৭৩ শতাংশ।
ফিফার এই বিশাল আয়ের প্রধান উৎস হলো গ্লোবাল টিভি স্বত্ব বিক্রি। কাতার বিশ্বকাপ থেকে যা বহুগুণ বেশি। টুর্নামেন্টের দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার সিদ্ধান্তটি এখানে দারুণ কাজ করেছে। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪ হওয়ায় ব্রডকাস্টারদের কাছে বিক্রি করার মতো অনেক বেশি কন্টেন্ট এখন ফিফার হাতে রয়েছে।
এছাড়া উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের বাজারের কথা মাথায় রেখে ম্যাচের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের টিভি স্বত্ব আলাদাভাবে বিক্রি করে আয় বাড়ানো হয়েছে। টিকটক এবং ইউটিউবে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট লাইভ-স্ট্রিম করার মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করার নতুন কৌশলও নিয়েছে ফিফা।
আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলো টিকিট বিক্রি এবং হসপিটালিটি, যা থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার আসবে। কাতার বিশ্বকাপে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল মাত্র ৯৫০ মিলিয়ন ডলার। উত্তর আমেরিকার বিশাল বাজার এবং 'ডায়নামিক প্রাইসিং' পদ্ধতির কারণে টিকিটের দাম এবার আকাশচুম্বী। স্পনসরশিপ এবং বাণিজ্যিক পার্টনারদের কাছ থেকেও রেকর্ড ২.৮ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ফিফা।
এছাড়া লাইসেন্সিং চুক্তি থেকে আসবে আরো ৬৭০ মিলিয়ন ডলার। অ্যাডিডাস আরামকো এবং কোকা-কোলার মতো ১৬টি গ্লোবাল পার্টনারের সঙ্গে চুক্তি করেছে ফিফা। এই বিপুল আয়ের মধ্যেও কিছু বিতর্কের কালো মেঘ জমেছে। ফিফা মার্কিন ফেডারেল ট্যাক্স থেকে মুক্তি পেলেও রাজ্য এবং শহরের কর নিয়ে জটিলতা কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ফুটবল সংস্থাকে কর ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে।
এছাড়া ফিফা এবং আয়োজক শহরগুলোর মধ্যেও স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ফিফা সম্প্রচার স্পনসরশিপ এবং টিকিট থেকে সব আয় নিয়ে নিলেও শহরগুলোকে নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তার সব খরচ বহন করতে হচ্ছে। বাড়তি খরচের চাপে অনেক শহর তাদের 'ফ্যান ফেস্টিভ্যাল' বাতিল করেছে। তবে এসবের মাঝেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাগ্য সুপ্রসন্ন। তার বার্ষিক বোনাস ২ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৩ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তার মোট বার্ষিক বেতন প্যাকেজ এখন ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
