শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার নিয়ম ও শেষ সময়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রমজানের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তবে অনেকেই জানতে চান এই রোজা কতদিনের মধ্যে রাখতে হয় এবং এর সঠিক বিধান কী।
শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার সময় নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে চাঁদ দেখা। ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ২০ বা ২১ মার্চ হওয়ায় শাওয়াল মাসের রোজার শেষ সময়ও সেই অনুযায়ী হিসাব করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন: অনুমতি ছাড়া হজে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান: শায়খ সুদাইস
শাওয়াল মাসের ২ তারিখ থেকে এই রোজা রাখা শুরু করা যায়।
১৮ বা ১৯ এপ্রিল ২০২৬ (শাওয়াল মাসের ২৯ বা ৩০ তারিখ) পর্যন্ত এই রোজা রাখার সুযোগ থাকবে।
যেহেতু হিজরি মাস ২৯ বা ৩০ দিনে হয়, তাই জিলকদ মাসের চাঁদ ওঠার আগেই এই ছয়টি রোজা সম্পন্ন করতে হবে। নিরাপদ থাকতে ১৮ এপ্রিলের মধ্যেই রোজাগুলো শেষ করে নেওয়া উত্তম।
একটানা না কি ভেঙে ভেঙে?
শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার ক্ষেত্রে ইসলামে যথেষ্ট নমনীয়তা রয়েছে।
১. ধারাবাহিকতা: রোজাগুলো একটানা রাখা আবশ্যক নয়। পুরো মাসের মধ্যে যেকোনো ছয় দিন রোজা রাখলেই সওয়াব পাওয়া যাবে।
২. নিষিদ্ধ দিন: শুধুমাত্র ঈদের দিন (১ শাওয়াল) রোজা রাখা হারাম। ঈদের পরের দিন থেকেই এই রোজা রাখা শুরু করা যায়।
৩. কাজা রোজা: যাদের রমজানের রোজা কাজা রয়েছে, আলেমদের মতে আগে ফরজ (কাজা) রোজা আদায় করে তারপর শাওয়ালের নফল রোজা রাখা উত্তম। তবে সময় কম থাকলে নফল রোজাগুলো আগে রেখে পরে কাজা আদায় করার অবকাশও রয়েছে।
কেন রাখবেন শাওয়ালের ছয় রোজা?
রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।” (সহিহ মুসলিম)।
ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব অন্তত ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। সেই হিসেবে রমজানের ৩০টি রোজা ৩০০ দিনের সমান এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা ৬০ দিনের সমান। অর্থাৎ মোট ৩৬০ দিন বা এক বছরের সওয়াব অর্জিত হয় এই আমলের মাধ্যমে।
শাওয়াল মাসের বরকতময় ছয় রোজা পালনের সময় প্রায় শেষের দিকে। পরকালীন পাথেয় অর্জনের এই সুযোগ যেন কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
