×

ধর্ম

রোজা যেভাবে ইসলাম ধর্মের পাঁচ ফরজের একটি হয়ে উঠল

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

রোজা যেভাবে ইসলাম ধর্মের পাঁচ ফরজের একটি হয়ে উঠল

ছবি : সংগৃহীত

মক্কা বা মদিনায় ইসলাম প্রচারের আগেও আরব সমাজে রোজা রাখার প্রচলন ছিল। তবে বর্তমানে যেভাবে পুরো রমজান মাসজুড়ে রোজা পালন করা হয়, ইসলামের শুরুর দিকে তা এভাবে বাধ্যতামূলক ছিল না। ইসলামের নবী মাঝে মাঝে রোজা রাখলেও শুরুতে উম্মত বা সাহাবীদের জন্য ৩০ দিন রোজা রাখা ফরজ ছিল না।

ইসলামে রোজা বা রমজান ফরজ হিসাবে বাধ্যতামূলক করা হয় হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে। এরপর থেকেই অপরিবর্তিত রূপে সারা পৃথিবীতে রোজা পালন করা হচ্ছে। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কা থেকে সাহাবীদের নিয়ে মদিনায় হিজরত করেন ইসলামের নবী। হিজরতের এই বছর থেকেই মুসলমানদের হিজরি সাল গণনা শুরু হয়। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) রমজান মাসে কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে রোজা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে অপরিবর্তিত রূপে সারা বিশ্বে রমজানের রোজা পালন হয়ে আসছে।

ইসলামে রোজা পাঁচটি প্রধান ফরজের একটি। অন্য চারটি হলো ঈমান, নামাজ, যাকাত ও হজ। যদিও রমজানের মতো একমাসব্যাপী রোজা অন্য ধর্মে নেই, তবে ইহুদি ও আরো বহু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নির্দিষ্ট দিনে উপবাস বা পানাহার থেকে বিরত থাকার ধর্মীয় রীতি রয়েছে।

মক্কা-মদিনায় আগের রোজার চর্চা

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা ফরজ হওয়ার আগে আরব সমাজে বিভিন্ন ধরনের উপবাসের প্রচলন ছিল। কেউ আশুরার দিনে রোজা রাখতেন, কেউ আবার চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে, যা ‘আইয়ামুল বিজ’ নামে পরিচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম জানান, কোরআনের যে আয়াত দিয়ে রোজা ফরজ করা হয়েছে সেখানে উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ওপরও রোজা ফরজ ছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন জাতির মধ্যে আগে থেকেই উপবাসের বিধান প্রচলিত ছিল, যদিও তার ধরন ভিন্ন ছিল।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজি জানান, পূর্ববর্তী নবীদের ওপর রোজা ফরজ থাকলেও তা একমাসব্যাপী ছিল না। ইসলামের নবী মক্কায় অবস্থানকালে প্রতি চান্দ্র মাসে তিন দিন করে সিয়াম সাধনা করতেন যা বছরে মোট ৩৬ দিন হয়।

ইতিহাসে উল্লেখ আছে, নবী আদম (আ.)-এর সময় মাসে তিন দিন রোজা রাখা হতো। নবী দাউদ (আ.) একদিন পরপর রোজা রাখতেন। নবী মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে প্রথমে ৩০ দিন, পরে আরো ১০ দিন মিলিয়ে মোট ৪০ দিন রোজা রেখেছিলেন।

আরো পড়ুন : এখনো রোজা শুরু হয়নি ২ দেশে, কারণ কী?

আশুরা থেকে রমজান

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরতের পর ইসলামের নবী দেখতে পান, মদিনাবাসী আশুরার দিনে রোজা রাখছে। তিনি জানতে চাইলে তারা বলেন, এই দিনে আল্লাহ নবী মুসাকে (আ.) ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন নবী বলেন, মুসা (আ.)-এর ব্যাপারে তাদের চেয়ে তিনি অধিক হকদার। এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবীদেরও রাখতে বলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, বেঁচে থাকলে পরের বছর দুই দিন রোজা রাখবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মোফাচ্ছির ও উপ-পরিচালক ড. মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী জানান, পূর্ববর্তী নবীদের ওপর ৩০ দিনের রোজা ফরজ ছিল না। কারও ওপর আশুরার রোজা, কারও ওপর আইয়ামুল বিজের রোজা ফরজ ছিল। তিনি বলেন, হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের আগে ইসলামের নবী কোনো ফরজ রোজা পালন করেননি, তিনি নফল হিসেবে আইয়ামুল বিজের রোজা রাখতেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব অঞ্চলে আশুরা ও আইয়ামুল বিজ- এই দুই ধরনের রোজার চর্চা ছিল। তবে পূর্ণ ৩০ দিনের রমজানের রোজা কেবল ইসলামের নবী মুহাম্মদের (সা.) আমল থেকেই ফরজ হয়।

ফরজ হওয়ার প্রেক্ষাপট

রোজা ফরজ করার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনা ছিল না। বরং ইসলামের বিধিবিধানের অংশ হিসেবেই তা প্রবর্তিত হয়। ড. পাটোয়ারী বলেন, মক্কায় অবতীর্ণ আয়াতগুলোতে আকিদা, ঈমান ও একত্ববাদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। আর মদিনায় অবতীর্ণ আয়াতগুলোতে বিভিন্ন বিধিবিধান নাজিল হয়, রোজা তার একটি।

রোজার নিয়মে ধাপে ধাপে পরিবর্তন

শুরুর দিকে রোজার বিধান কিছুটা ভিন্ন ছিল। ড. পাটোয়ারী জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কেউ রোজা রাখতে অক্ষম হলে ফিদইয়া দেওয়ার সুযোগ ছিল অর্থাৎ প্রতিটি রোজার বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য বা তার মূল্য গরিবদের দান করা যেত। তবে পরে তা পরিবর্তন করে রোজা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়।

রোজার সময়সূচিও প্রথমদিকে আলাদা ছিল। সন্ধ্যা থেকে এশার আজান পর্যন্ত খাওয়ার অনুমতি ছিল এবং এশার আজানের পর থেকে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এতে অনেক সাহাবীর কষ্ট হচ্ছিল। খেতে খেতে এশার আজান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। পরবর্তীতে আয়াত নাজিল হয়ে সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখার চূড়ান্ত বিধান নির্ধারিত হয়। এই পরিবর্তনগুলো হিজরি দ্বিতীয় বর্ষেই সম্পন্ন হয়।

সেহরি-ইফতারের খাবার

তৎকালীন আরবে সেহরি ও ইফতারে সাধারণত খেজুর, পানি, জমজমের পানি, উট বা দুম্বার দুধ এবং মাংস খাওয়া হতো বলে ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন। অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, সেহরি ও ইফতারের খাবার প্রায় একই ধরনের ছিল। সহজ ও পুষ্টিকর খাদ্যই ছিল প্রধান ভরসা।

এভাবেই ধাপে ধাপে রোজা ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে এবং হিজরি দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তা ইসলামের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের একটিতে পরিণত হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

দেশব্যাপী ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ আজ

দেশব্যাপী ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ আজ

মালয়েশিয়া থেকে এলো ৩৪ হাজার টন ডিজেল

মালয়েশিয়া থেকে এলো ৩৪ হাজার টন ডিজেল

শনিবার যেসব এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

শনিবার যেসব এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি, ভ্যাপসা গরমের আভাস

ঢাকার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি, ভ্যাপসা গরমের আভাস

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App