উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন
পুনরায় সচল হতে পারে মোগলহাট স্থলবন্দর
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা লালমনিরহাটের মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার উদ্দেশ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বন্দর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানের নেতৃত্বে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর বিশেষ আগ্রহ ও নির্দেশনায় প্রতিনিধি দলটি প্রস্তাবিত বন্দর এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং পুনরায় চালুর বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই করে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, “মোগলহাট কেবল একটি রুট নয়, এটি একসময় এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। এখান দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচল হতো।”
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে ঐতিহাসিক এই স্থলবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার আন্তরিক। প্রাথমিক সমীক্ষার অংশ হিসেবে বর্তমান অবস্থা ও উপযোগিতা যাচাই করতেই এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ পরিদর্শনের ভিত্তিতে খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণসহ সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, মোগলহাট স্থলবন্দর চালু হলে বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পরিদর্শনে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
