নীলফামারী এটিএম বুথ ডাকাতিতে ২ আসামি শোন এরেস্ট
মো. রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী থেকে
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
ছবি : ভোরের কাগজ
নীলফামারীর সদর উপজেলার কাজীরহাট বাজারে ডাচ বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক এটিএম বুথে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে নীলফামারী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে শোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার রামদেবপুর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. ইউসুফ নবী (৪৮) এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার শাকতলী ভুইয়াবাড়ি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মোদাচ্ছের হোসেন (২৯)।
তারা বর্তমানে অন্য একটি ডাকাতি মামলায় বগুড়া জেলা কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা চলমান রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভোরে সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাজীরহাট বাজারে অবস্থিত ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ২৪ ডিসেম্বর নীলফামারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করা হয়।
আরো পড়ুন : কুড়িগ্রামে ১০ চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৯
সূত্র আরো জানায়, একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মুখোশধারী ডাকাতদল বগুড়া শহরের বারোপুর এলাকায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও এম.আর ব্রাদার্স ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে ডাকাতি চালায়। এ সময় তারা গার্ড ও কর্মচারীদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ক্যাশ থেকে ৪৩ হাজার টাকা, একটি বারবোর শটগান এবং ১০ রাউন্ড কার্তুজ লুট করে নেয়। ঘটনার সময় পুলিশের একটি টহল দল সেখানে পৌঁছালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ মিনি ট্রাকে পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের ধাওয়া করে এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে সতর্ক করা হয়। এক পর্যায়ে ডাকাতরা মিনি ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ইউসুফ নবী ও মোদাচ্ছের হোসেন আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এতে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য জড়িতদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
নীলফামারী থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে একটি লোহার তৈরি মিনি ভল্ট, ৪৪২টি ডিবিবিএল এটিএম কার্ড, একটি সিডিএম এইচডিডি, ১০টি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্ড, ৮ বক্স স্টার প্লাগ পিন এবং ৬টি বলপেন উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইউসুফ নবী ও মোদাচ্ছের হোসেনকে রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে শোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
