আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
করোনা ভাতার টাকা আত্মসাৎ, তদন্তে প্রশাসন
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ছবি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা মহামারির সময় সম্মুখসারির কর্মীদের জন্য বরাদ্দ ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাককে প্রধান করে গঠিত এ কমিটি আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিন তদন্ত চালানোর কথা রয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, নথিপত্র যাচাই ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য করোনা তহবিল থেকে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ প্রশাসনিক জটিলতায় ওই অর্থ বিতরণ করতে না পেরে সরকারি হিসাবে রেখে বদলি হন। পরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডা. রাজন কুমার দাস।
এরপর ওই অর্থের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের না জানিয়ে গোপনে অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। দীর্ঘদিন পর ৪৬ জন ভুক্তভোগী এ বিষয়ে বিভাগীয় পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এদিকে অভিযোগটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ডা. রাজন কুমার দাস গত বছরের ৬ এপ্রিল ৩ লাখ এবং ৯ এপ্রিল ১ লাখ টাকা সরকারি হিসাবে জমা দেন। তবে বাকি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার কোনো হিসাব এখনও মেলেনি বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ডা. রাজন কুমার দাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। অভিযোগে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বড়বাবু (হেড ক্লার্ক) মাহবুব আলম লিকুসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে আমরা ডিরেক্টর স্যারের কাছে তদন্ত রির্পোট পাঠাব। তারপর তাঁরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।”
