ভাষাসৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চের জায়গায় টয়লেট
মোস্তাক আহমেদ কিরণ,ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
ঈশ্বরদীতে ভাষাসৈনিকের নামে নির্মিত একটি মুক্তমঞ্চ ভেঙে সেখানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মঞ্চটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তিন বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
জানা যায়, ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুজ্জামান বাবু উদ্যোগে ঈশ্বরদী পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় রেলওয়ের পরিত্যক্ত জায়গায় নির্মিত হয় ‘ভাষাসৈনিক মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ’। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে এটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
স্থানীয়দের মতে, মঞ্চটি ঘিরে ঈশ্বরদীবাসীর দীর্ঘদিনের আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ছাড়াও এখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো।
তবে ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মঞ্চটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি দোকানও উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও বাসিন্দারা মঞ্চটি না ভাঙার অনুরোধ জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই স্থানে আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি টয়লেটটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কেউ এতে অংশ নেননি।
মঞ্চ ভাঙার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি ‘সচেতন যুবসমাজ’-এর ব্যানারে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা দ্রুত মঞ্চ পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
ঈশ্বরদী সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ভাষাসৈনিকের নামে নির্মিত মঞ্চ ভেঙে সেখানে টয়লেট নির্মাণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি একই স্থানে মঞ্চ পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, একসময় এই মঞ্চে সব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতো এবং এটি ছিল স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম কেন্দ্র। হঠাৎ করে মঞ্চ ভেঙে সেখানে টয়লেট নির্মাণ করায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত মঞ্চটি পুনর্নির্মাণ বা বিকল্প স্থানে একই নামে নতুন মঞ্চ স্থাপন করা হোক।
