গান-কবিতা-কথামালায় নিহতদের স্মরণ : উদীচীর নেত্রকোনা ট্র্যাজেডি দিবস
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক : কথামালা, স্মৃতিচারণা, গান-কবিতা-নৃত্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগতের ইতিহাসে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডগুলোর অন্যতম, নেত্রকোনা হত্যাকাণ্ডের ১৮তম বার্ষিকী স্মরণ করল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর তোপখানা রোডের উদীচী চত্বরে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটি দলীয়ভাবে পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। এরপর নিহতদের স্মরণে স্থাপিত অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর সংসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি প্রবীর সরদার, সিপিবি নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এবং ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফ নূর। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ২০০৫ সালের এই দিনে নেত্রকোনায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ে মৌলবাদী, সা¤প্রদায়িক, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ঘৃণ্য হামলায় প্রাণ হারান উদীচী নেত্রকোনা জেলা সংসদের তৎকালীন সহসাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন, সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলীসহ আটজন। সেইদিনের
সেই নৃশংস হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবার এখনো সেই দুঃসহ স্মৃতি বহন করে চলেছে। আর যারা আহত হয়েছিলেন তারা বয়ে বেড়াচ্ছেন শরীরে ক্ষতের অসহ্য যন্ত্রণা।
বক্তারা বলেন, এর আগেও ১৯৯৯ সালে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলা করেছিল মুক্ত চিন্তার বিরোধী অপশক্তি। সেই হামলাসহ এ দেশে এখন পর্যন্ত সংঘটিত বেশির ভাগ বোমা হামলারই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। আর সেজন্যই এখনো স্বাধীন বাংলাদেশে আস্ফালন দেখায় অন্ধকারের শক্তি। তবে যত হামলাই আসুক, অসা¤প্রদায়িক, মৌলবাদমুক্ত, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে উদীচীকে বিচ্যুত করা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ের লাগোয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন শতদল গোষ্ঠীর কার্যালয়ে একটি বোমা পড়ে থাকতে দেখে এক পথশিশু। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খাজা হায়দার হোসেন এবং সুদীপ্তা পাল শেলীসহ উদীচীর নেতাকর্মীও ভিড় করেন ঘটনাস্থলে। এর ঘণ্টাখানেক পর সাইকেল আরোহী এক যুবক নিরাপত্তা বেস্টনী পেরিয়ে উদীচী নেতাকর্মীদের কাছাকাছি পৌঁছেই তার সাইকেলে বহন করে আনা বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটালে মারা যান উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেনসহ ৮ জন। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন ৯ জন পুলিশ সদস্য এবং উদীচীর বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীসহ অন্তত ৬০ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান সুদীপ্তা পাল শেলী।
