জামালপুর জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ : সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে ভবন সংকটে ব্যাহত শিক্ষা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সাইমুম সাব্বির শোভন, জামালপুর থেকে : একাডেমিক ভবন সংকটের কারণে জামালপুর জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজটিতে শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এ কলেজে ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য রয়েছে মাত্র ৩৭টি কক্ষ। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা। সপ্তাহে ২ দিন এবং ৩ দিন ভাগ করে পাঠদানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
১৯৪৬ সালে ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে জামালপুর কলেজ নামে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন জামালপুর মহকুমার এসডিও পনাউল্লাহ আহাম্মদের প্রচেষ্টায় ও মাদারগঞ্জের দানবীর আশেক মাহমুদ তালুকদারের সহযোগীতায় কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে কলেজটির আশেক মাহমুদ কলেজ নামকরণ করা হয়। প্রথমদিকে কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এবং ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ওই বছরই বাংলা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রথম অনার্স কোর্স চালু হয়। ১৯৭৯ সালে কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ১৪টি বিষয়ে অনার্স ও ১২টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। আয়তনের দিক দিয়ে রংপুর কারমাইকেল কলেজের পরই এ কলেজের অবস্থান। এ কলেজটি ৪৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে শিক্ষার্থী ১৪ হাজার। জামালপুর-শেরপুরসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীরাও লেখাপড়া করে এই কলেজে।
বর্তমানে কলেজটিতে ১০০টি শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন থাকলেও রয়েছে মাত্র ৩৭টি । সব বিভাগে ক্লাস ৩ দিন করে চললেও এখন সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন হওয়ায় সেটাও নিতে পারছেনা কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করতে শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব এবং সেমিনার কক্ষ মিলিয়ে ১৪৫টি কক্ষের প্রয়োজন। বর্তমান একাডেমিক ভবনটি ৪ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও ওই ভবনেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ওই ভবনের ছাদ ফেলে দিয়ে টিনের চাল তৈরি করে সেখানেই ক্লাস নেয়া হচ্ছে। এছাড়া কলেজের অডিটরিয়ামটিও ঝুঁকিপূর্ণ। অডিটরিয়ামে বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় সভা-সেমিনার পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। শ্রেণি সংকটের কারণে এখানেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হয়।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাওন মোল্লা বলেন, আমাদের ক্লাসে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। প্রতিটি বেঞ্চে ৪-৫ জন করে বসতে হয়। এ গরমে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না।
ইংরেজি বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান নাহিদ জানান, রুটিন অনুযায়ী সপ্তাহে ৪ দিন ক্লাস হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে ক্লাস হয় ২ দিন। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে স্টোর রুমের মতো একটি কক্ষে আমাদের ক্লাস হয়। এই পরিস্থিতিতে নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরি খুবই জরুরি।
কলেজটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাকের আহম্মদ চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ক্লাস নিতে সমস্যা হয়। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ক্লাস বন্ধ রেখে পরীক্ষা নিতে হয়। শ্রেণি সংকট দূর করতে অন্তত একটি ১০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন জরুরি হয়ে পড়েছে। একটি ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হলে সব সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হারুন অর রশীদ বলেন, এই কলেজে ১৪টি বিভাগে অনার্স ও ১২টি বিভাগে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। এ কলেজে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তাদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে অন্তত ১০০টি শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন। সেখানে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ৩৭টি। যার ফলে সব বিভাগের, সব বিষয়ের এবং সব ইয়ারের ক্লাস প্রতিদিন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সপ্তাহে তিন দিন ভাগ করে একেকটা ইয়ারের ক্লাস হতো। সপ্তাহে দুদিন ছুটি হওয়ায় এখন সেটাও নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কলেজের মূল একাডেমিক ভবন পরিত্যক্ত হয়েছে। পরে ওই ভবনের ছাদ ফেলে টিনের চালা দিয়ে শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। এ কলেজে ক্লাস পরিচালনা করতে শ্রেণিকক্ষ, সেমিনার কক্ষ ও ল্যাব সব মিলিয়ে ১৪৫টি কক্ষ দরকার। শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর করতে প্রতি তলা ২৯ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১০ তলা ভিতের ৯ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের নকশা প্রস্তাবনা আকারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারব।
এসব বিষয়ে জামালপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই বিষয় নিয়ে প্রকল্প পরিচালক মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন। ইনক্লুুড করে দিলে কাজগুলো করতে পারব। এ প্রকল্পের কাজগুলো শেষ হলে আশেক মাহমুদ কলেজ একটি সুন্দর ও চমৎকার প্রতিষ্ঠান হবে।
