×

শেষের পাতা

২৫ বছরে ‘অবয়ব’ : করোনার অভিঘাত কাটিয়ে লক্ষ্যে এগোচ্ছে নাট্যদলটি

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

২৫ বছরে ‘অবয়ব’ : করোনার অভিঘাত কাটিয়ে লক্ষ্যে এগোচ্ছে নাট্যদলটি
শরীফা বুলবুল : ‘ভালো মনের মানুষ হব’ এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে নিজেদের উৎকর্ষ সাধন আর দেশীয় কৃষ্টি শিল্প সাহিত্য ঐতিহ্য বিকশিত করার লক্ষ্যে মিরপুর দুই নম্বরে চম্পা পারুল স্কুলের একটি কক্ষে শহিদুল হক খান শ্যাননের নেতৃত্বে ১৯ তরুণ নিয়ে ১৯৯৭ সালের ৪ এপ্রিল অবয়ব নাট্যদলের যাত্রা শুরু। কাগজে-কলমে দুইশ’র অধিক সদস্য থাকলেও বর্তমানে দলের নিয়মিত সদস্য ৩০ থেকে ৩৫ জন। প্রথম প্রযোজনা ময়মনসিংহ গীতিকাব্য অবলম্বনে ‘বাইদানির গান’। ইমান আলী বয়াতির রচনায় গীতি কাব্যটির নির্দেশনা দিয়েছিলেন তানভির আহমেদ সিডনি। ২৫ বছরে দলটি ত্রিশটির মতো প্রযোজনা করেছে। প্রযোজনা তৈরির ক্ষেত্রে মৌলিক নাটকের প্রাধান্য দিয়েছে বরাবরই। নিজস্ব সংস্কৃতির অন্যতম ময়মনসিংহ গীতিকাব্য অবলম্বনে যেমন কাজ করেছে, তেমনি প্রকৃতি- পুরাণ, ইতিহাস- দেশ ও মাটি, স্যাটায়ার, দ্রোহ-প্রেম ও শ্রেণিসংগ্রাম, মিথলজি এমনকি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নাটক প্রযোজনা করেছে। যেখানে প্রাধান্য পেয়েছে দলীয় নাট্যকারের নাটকও। বাঙালির বিশ্বাস বা মিথলজির জায়গা থেকে দলের ‘জলপরী’ নাটক দর্শকের হৃদয় জয় করেছিল। সবাই যখন বিদেশি নাট্যকারদের নাটক মঞ্চে প্রাধান্য দিয়েছে তখন অবয়ব নাট্যদল দলীয় নাট্যকারের স্যাটায়ার নাটক ‘সে এক রাজ্য’কে বেছে নিয়েছে। যে নাটকের প্রত্যেকটি প্রদর্শনীতে হাউসফুল দর্শক থাকত। মহাকাব্য নিয়ে কাজ করার সাহসও অবয়ব নাট্যদলের রয়েছে। মহাভারত অবলম্বনে ‘কর্ণ কথা’ এবং মীর মশাররফ হোসেনের মহাকাব্যিক উপন্যাস অবলম্বনে ‘বিষাদ-সিন্ধু’ দলের জনপ্রিয় প্রযোজনা। ২০০৩ সালে ১৪ ডিসেম্বর অবয়ব নাট্যদল মিরপুরের চল্লিশটি বিভিন্ন সংস্কৃতিক সংগঠনের ১৫০ জন শিল্পীকে নিয়ে বুদ্ধিজীবী নিধনের ওপর সাউন্ড এন্ড লাইট শো (শব্দ আলো ও শরীর কথন) ‘দুন্দুভি’ প্রদর্শনী করেন। দলের বেশ কয়েকটি পথনাটক রয়েছে যেগুলো শতাধিকবারের বেশি প্রদর্শনী হয়েছে। পুকুরচুরি, সৌভাগ্যের থলি, লালি দলের অতি পরিচিত পথনাটক। অংশগ্রহণ করছে জাতীয় নাট্যোৎসবসহ ঢাকায় এবং বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন দলের নাট্যোৎসবসহ নিয়মিত জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে। এতো কাজের মধ্যেও অবয়ব নাট্যদলের অবয়বটি যেন ¤øান হয়ে যায় করোনার অভিঘাতে। দীর্ঘ ২৫ বছরে এমন ঝড়ের মোকাবিলা করতে হয়নি দলটিকে। করোনা পরবর্তী নাট্যদলের পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়িয়ে? এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক কাজী দেলোয়ার হেমন্ত ভোরের কাগজকে বললেন, মহামারি করোনার ধাক্কা দলের কার্যক্রম ব্যাহত করেছে মারাত্মকভাবে। দীর্ঘদিন দলের কার্যক্রম না থাকায় কর্মীরা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে দলের সামান্যটুকু আয়ের উৎসও। জমেছে মহড়া কক্ষের ভাড়া। এসেছে বাড়ি ছাড়ার নোটিস। বাধ্য হয়েছি মহড়া কক্ষ ছাড়তে। একটি ছোট গোডাউন ভাড়া করে সেখানে দলীয় ও প্রযোজনা দ্রব্যসামগ্রী রাখা হয়েছে। এই দুঃসময় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে অনেক সময় লাগবে আমাদের। আমাদের কার্যক্রম বন্ধ নেই। আমরা এখন কঠিন সংগ্রামের মধ্যে আছি। আর সংগ্রাম ছাড়া সৃষ্টি হয় না। শুধু অবয়ব নাট্যদল নয়, যে কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালাতে গেলে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কঠিন লড়াই করতে হয়। আর সবকিছু জয় করে নিজেদের সৃষ্টি নিজেদেরই করতে হয়। অবয়বও তার ব্যতিক্রম নয়। সব বিরূপ পরিস্থিতি জয় করে অবয়ব নাট্যদল দীর্ঘ ২৫ বছর কাজ করছে নিজেদের উৎকর্ষ সাধন আর সৃষ্টির পথে। এবারো লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বছরে আয়ের পরিমাণ কী রকম? জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয় সদস্যদের চাঁদা-অনুদান, পরিচিতজনের অনুদান, প্রদর্শনীর টিকেট বিক্রয়, আমন্ত্রিত প্রদর্শনী থেকে আয় আর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে বার্ষিক অনুদানের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে দলীয় কার্যের ব্যয়ভার বহন করা হয়। দলীয় আয়ের পরিমাণ সঠিকভাবে বলা যাবে না তবে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। দলীয় কর্মীরা তেমন কেউ প্রভাবশালী নয়। তাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এবং স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী। দলীয় সদস্যদের চাঁদা বাবদ যেটা আসে সেটা নিতান্তই ক্ষুদ্র। এছাড়া সব প্রদর্শনী তো আর হাউসফুল হয় না। দেখা যায় একটি প্রদর্শনী থেকে কিছু টাকা দলের ফান্ডে থাকবে পরবর্তী প্রদর্শনীতে ঘাটতি পূরণ করতে হয়। তিনি বলেন, আমাদের মহড়া কক্ষ আর গোডাউন ভাড়া বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা মাসে দিতে হয়। প্রতি মাসে একটি মঞ্চনাটক প্রদর্শনীর জন্য সাত থেকে আট হাজার টাকা বাজেট হতে হয়। প্রতি বছর একটি নতুন মঞ্চনাটক, একাধিক পথনাটক প্রযোজনায় আনতে হয় যার একটি বিশাল খরচ রয়েছে। দল চালাতে গিয়ে কোনো বিরূপতার মুখে পড়তে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে দলগুলোর আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, সে দল পরিচালনা করতে প্রতিমুহূর্তে বিরূপতার মুখে পড়তে হয়। তবে আমরা বিশ্বাস করি, ‘আমার অবয়বেই আমার শিল্পচেতনা’ আর এই চেতনার আলো জ্বলে উঠবে সব আঁধার গলিয়ে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

যুবদলের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বাগেরহাটে আনন্দ মিছিল

যুবদলের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বাগেরহাটে আনন্দ মিছিল

বিসিবির সভাপতি হলেন তামিম, সহ-সভাপতি ফাহিম

বিসিবির সভাপতি হলেন তামিম, সহ-সভাপতি ফাহিম

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ

‘গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না’

‘গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App