পরিকল্পনামন্ত্রী : দেশে রাজনীতিবিদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের দাপট বেশি

আগের সংবাদ

শ্যামল দত্ত’র প্রত্যয় : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে ভোরের কাগজ

পরের সংবাদ

ফিরে দেখা-২০২১ : করোনাকালেও ইতিবাচক পুঁজিবাজার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

আলী ইব্রাহিম : করোনাকালীন সময়েও ইতিবাচক ছিল দেশের পুঁজিবাজার। সূচকের উত্থান-পতনের মধ্যে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। বিদায়ী বছরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছেন। সেই সঙ্গে বেড়েছে সূচকও। বর্তমান কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপে গতি ফিরেছে পুঁজিবাজারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে যুক্তরাষ্ট্র, য়ুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রোড শো করেছে বর্তমান কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় জার্মান, রাশিয়াসহ বড় অর্থনীতির দেশগুলোর দেশে রোডশো করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এতে বিদেশে দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি প্রবাসী বাঙালিদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকগুণ বেড়েছে। এ ছাড়া বর্তমান কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে পুঁজিবাজারে। এতে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকগুণ বেড়েছে। আর কোম্পানি তালিকাভুক্ত
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার ২৩০ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার টাকায়। আর ২০২১ সালের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪২ হাজার ১৯৬ কোটি ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকায়। সে হিসেবে বিনিয়োগকারীরা ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা ফিরে পেয়েছে। ২০২১ সালে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয় এবং সর্বনি¤œ ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকায় নেমেছিল।
এদিকে, ২০২১ সালে ডিএসইতে ২৪০ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার। আর ২০২০ সালে ২০৮ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮১ কোটি ২২ লাখ টাকার। সেই হিসেবে অর্থাৎ গত ২০২০ সালের বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরে ডিএসইতে লেনদেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ১৬২ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসইতে ২০২১ সালে গড় প্রতিকার্যদিবস লেনদেন ১৪৭৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর আগের বছর গড়ে প্রতিকার্যদিব্স লেনদেন হয়েছিল ৬৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০২০ সালের তুলনায় বছরের ব্যবধানে ডিএসইতে গড় লেনদেন ৮২৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা বেশি হয়েছে।
বছরের সাবির্ক হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও বিকাশের ফলে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য মডেল এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রেক্ষাপট ও গতিপ্রকৃতি প্রতিনিয়ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। পুঁজিবাজারের সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ক্ষেএে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করোনাকালীন সময়ে পরিস্থিতিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোবাইলে লেনদেন বেড়েছে।
আলোচ্য সময়ে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সাড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে ২০২১ সালে মোবাইলের মাধ্যমে ৪২ হাজার ৬৮১ কোটি ৫৯ লাখ ৩ হাজার ২২৮ টাকার লেনদেন করেছে। এর মধ্যে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে ২১ হাজার ৭৮২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬৬ টাকা এবং বিক্রয়ের পরিমাণ ২০ হাজার ৮৯৮ কোটি ৯২ লাখ ৬ হাজার ৮৬২ টাকার লেনদেন করেছে। বছরটিতে মোবাইলের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৫ হাজার ৫২টি আদেশ প্রেরণ করে। এর মধ্যে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৯২ হাজার ১২৬টি আদেশ কার্যকর হয় বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিদায়ী বছরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২০২১ সালে ২৪০ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক হাজার ৩৫৪ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বা ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের শেষ কার্যদিবস ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪০২ দশমিক ০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। আর ২০২১ সালের শেষ কার্যদিবস সূচকটি ছয় হাজার ৭৫৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বছরটিতে ডিএসইএক্স সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৬৮ দশমিক ০০ পয়েন্টে উন্নীত হয় এবং সর্বনি¤œ ছিল ৫ হাজার ৪৪ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সূচকটি ৪ হাজার ৯০ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচকটি ১৮৯ দশমিক ০১ পয়েন্ট বা ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৪৩১ দশমিক ১২ পয়েন্টে উন্নীত হয়। ২০২০ সালের শেষ কার্যদিবস সূচকটি এক হাজার ২৪২ দশমিক ১১ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।
সূচকটি ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ দশমিক ২৬ পয়েন্টে উন্নীত হয় এবং সর্বনি¤œ ছিল ১ হাজারন ১৬৬ দশমিক ১৭ পয়েন্ট। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি ৯৪১ দশমিক ২৮ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাত্রা শুরু হয়। ডিএসই-৩০ সূচক ২০২১ সালে ৫৬৮ পয়েন্ট বা ২৮.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দুই হাজার ৫৩২ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আগের বছরের শেষ কার্যদিবস সূচকটি এক হাজার ৯৬৩ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। ২০২১ সালে সূচকটি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৮৭ দশমিক ৮২ পয়েন্টে উন্নীত হয় এবং সর্বনি¤œ ছিল ১ হাজার ৯০১ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ০১ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাত্রা শুরু হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়