ইমামের ‘মিসটেকে’ জিয়ার নাম বাদ
ছাত্রদলের ক্ষোভে পুনরায় মোনাজাত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় হট্টগোল ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের তোপের মুখে পরে আবার মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর সেখানে জিয়া পরিষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি, বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হল, সমিতি, শাখা ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দিন খান।
তবে মোনাজাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম নিতে ভুলে যান তিনি। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে অন্তত ১০ মিনিট ধরে হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়বার মোনাজাত করা হয়। এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ অন্য নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মোনাজাতে বলা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত বলে আমি মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম সাহেব ভদ্র ও ভালো মানুষ। তিনি কখনো জিয়াউর রহমানের নাম মিসটেক করেননি। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় উদযাপন কমিটি ও প্রশাসন নামটি বাদ দিয়েছে বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমি মনে করি। এ জন্য আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
ইমাম আশরাফ উদ্দীন বলেন, ‘আমার মিসটেক হয়েছিল। পরে আবার মোনাজাত করা হয়েছে। সহ–উপাচার্য মোনাজাতের আগে দেশ, নতুন সরকার ও বিরোধী দলের জন্য দোয়া করতে বলেছিলেন। এ ছাড়া যত দূর মনে পড়ে কোনো নাম বলেননি।’
