রিজভী
বঙ্গভবন থেকে শেখ মুজিবের ছবি নামানো উচিত হয়নি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গভবন থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের সচিব কারো গণতন্ত্রণের জন্য কোনো অবদান নেই মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আজকে অহংকার করেন। আপনারা কেউ তো শেখ হাসিনার দুঃশাসন ঠেকাতে কিংবা মোকাবিলা করতে পারেননি। আমরা শেখ হাসিনাকে মোকাবিলা করেছি।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অনেক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে, মারা গেছে। চিকিৎসকরা রাতের পর রাত জেগে থেকে চিকিৎসা করেছে, ময়নাতদন্ত করেছে। আমরা হাসপাতাল ঘুরে-ঘুরে তাদেরকে দেখতে গিয়েছি। উপদেষ্টা ও সচিবরা কয়জন হাসপাতালে গিয়েছেন? আর আজকে অহংকার করেন, কথা বলতে চান না। আমরা আপনাদের চিনে রাখছি। আপনারা কারা? আপনারা শেখ হাসিনার দোসর। বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কথা তুলে আজকে সচিব ও যুগ্ম সচিব হচ্ছেন। উপদেষ্টার পদে আছেন।
তিনি আরো বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল কায়েম করেছেন স্বাধীনতার পরে। সব দল নিষিদ্ধ করেছেন, গণতন্ত্রের হত্যা হয়েছে তার হাত ধরে। এর আগে ৬০’র দশকে তিনি স্বাধিকার আন্দোলন করেছেন। মানুষ তাকে বিশ্বাস করেছিল, ভোট দিয়েছিল। কিন্তু তিনি তার অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেননি। আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনে তার ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার যুদ্ধে তার কোনো ভূমিকা নেই। স্বাধীনতার যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন একজন অদম্য সৈনিক, জিয়াউর রহমান। দেশ স্বাধীন হলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো। আমরা দেখলাম তাদের হাত দিয়ে হত্যা, খুন ও গুম হয়েছে।
আরো পড়ুন: ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে সমুচিত জবাব
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোশতাক বঙ্গভবন থেকে শেখ মুজিবুরের ছবি নামিয়েছিল উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আবার বঙ্গভবনে শেখ মুজিবের ছবি পূরণ করেন। আজকে যারা অন্তর্বর্তী সরকারে আছেন, আমি একটা সংবাদ দেখেছি, সেটা ধরেই বলছি- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ … শেখ মুজিবের ছবি নামিয়েছেন। এতোদিন বলেছেন ঠিক আছে। কিন্তু সবকিছু তো একরকম হয় না। আমি মনে করি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামিয়ে ফেলাটা ঠিক হয়নি।
আমরা আওয়ামী লীগের মতো সংকীর্ণ নই, উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এজন্যই বলছি, শেখ মুজিবের ছবি নামিয়ে ফেলা ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, খন্দকার মোশতাক ছবি নামিয়েছে, জিয়াউর রহমান তুলেছেন। ইতিহাস বিচার করবে। সেই বিচারের ভার জনগণের। আমাদের জাতীয় জীবনে যার যতটুকু অবদান সেটা স্বীকার করতে হবে।
ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর ৮ আগস্ট দেশের দায়িত্ব নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকার পতনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বঙ্গভবন থেকে সরানো হয়নি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে অনেক দিন আগে থেকেই।
আরো পড়ুন: তারেক রহমানের জন্মদিন: যে নির্দেশ দিলো বিএনপি
এবার শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ছবি সরিয়ে ফেলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। গত রবিবার তিনিসহ তিনজন নতুন উপদেষ্টা শপথ নিয়েছেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথগ্রহণের পর দিনই শেখ মুজিবের ছবি বঙ্গভবন থেকে সরিয়ে ফেলেছেন তিনি। কেন এই ছবি সরিয়েছেন, তার ব্যাখ্যাও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তুলে ধরেছেন। মাহফুজ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘দরবার হল থেকে শেখ মুজিবুর রহমান-পোস্ট ‘৭১’ ফ্যাসিস্টের ছবি সরানো হয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার যে আমরা ৫ আগস্টের পর বঙ্গভবন থেকে তার ছবি সরাতে পারিনি। যার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু, মানুষের মধ্যে জুলাইয়ের চেতনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাকে কোথাও দেখা যাবে না।’
ক্ষমা ও ফ্যাসিস্টদের বিচার ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না বলেও জানান মাহফুজ।
এই উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ মুজিব এবং তার কন্যা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যা করেছেন তা আওয়ামী লীগকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে। অগণতান্ত্রিক ‘৭২’-এর সংবিধান থেকে শুরু করে দুর্ভিক্ষ, কোটি টাকা পাচার এবং হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধীদের বিচারবহির্ভূত হত্যা (৭২-৭৫, ২০০৯-২০২৪)। তাহলে, আমরা ‘৭১-এর আগের শেখ মুজিবের কথা বলতে পারি। ক্ষমা ও ফ্যাসিস্টদের বিচার ছাড়া কোনো ধরনের সংলাপ হবে না।’
