ছাত্রলীগকে আমিই হল থেকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে নিজেই বের হয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইডেন মহিলা কলেজ হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা যেসব কামরায় থাকতো, সব ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়েছে। তাদের রুমের সবকিছুতেই আগুন দেয়া হয়েছে। ওদের সার্টিফিকেট পুড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) সকালে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের পুড়িয়ে দেয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিটিভি ভবন পরিদর্শনে এসে এসব কথা জানান তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ বিটিভির কর্মকর্তারা।
শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমাকে জানানো হলো, আমি ছাত্রলীগের নেতাদের বললাম তোমরা হল থেকে বেরিয়ে আসো। কোনো ঝামেলায় যাওয়ার দরকার নেই। তারা কান্নাকাটি করে... আমাদের সার্টিফিকেট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, আমি বলেছি সব পাওয়া যাবে। কিন্তু কোনো ঝামেলায় যাবে না। হল থেকে চলে আসো। তারা বেরিয়ে আসে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রছাত্রীরা যখন নিজেকে 'তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার' স্লোগান দেয়, তখনই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করেছিল। ওই একদিনেই। এছাড়া তো তারা কোনো গণ্ডগোল করেনি। তারা সব সময় সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে, সাহসীকতা দেখিয়েছে। এখন তাদের ওপর ক্ষোভ। তিনি বলেন, যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটালো, শিক্ষকের গায়ে হাত তুলল, ছাত্রদের মারলো, হলগুলি লুটপাট করলো, তাদের কি হবে?
আরো পড়ুন : শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলিনি, বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ৭১ সালের ২৫ শে মার্চ হানাদার বাহিনী গণহত্যা যখন শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রোকেয়া হলের প্রায় তিনশ মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করে। জগন্নাথ হল, ইকবাল হলের ছাত্রদের অত্যাচার করে হত্যা করা হয়। রোকেয়া হলের মেয়েদেরকে রেপ করেছে, তুলে নিয়ে গেছে তাদের ক্যাম্পে। সেই ২৫ শে মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর কি করেছে তারা! বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তুলে নিয়ে তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সেই জায়গায় হল ভাঙ্গা, শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা এমনকি মহিলা শিক্ষক তাদেরকেও ছাড়েনি। ইডেনে মেয়েদেরকে খাম্বার সঙ্গে বেঁধে তাদের উপরে অত্যাচার, তাদেরকে নাকে খত দেয়া, কান ধরে উঠাবসা করা, এরকম নানারকম জুলুম অত্যাচার করেছে। তাদের অপরাধ কি? তারা ছাত্রলীগ করে। এভাবে ছাত্রলীগের কোনো কামরা নাই যে সেগুলো ভাঙচুর লুটপাট বা অগ্নিসংযোগ করা হয়নি।
তিনি বলেন, পুরো বাংলাদেশটাকে নরক বানানোর চেষ্টা করা হলো। তাই আমরা বাধ্য হয়েছি সেনাবাহিনী নামাতে। কারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। যার ফলে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
