×

রাজনীতি

ফখরুলের হুঁশিয়ারি

খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে সরকারের পরিণতি হবে ভয়াবহ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ০৭:১২ পিএম

খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে সরকারের পরিণতি হবে ভয়াবহ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে সরকারের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই- দেশনেত্রীকে মুক্ত করুন। অন্যথায় সরকারকে যে কোনো পরিণতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। এ দেশের মানুষ কখনই খালেদা জিয়াকে এভাবে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি অবস্থায় চলে যেতে দেবে না। 

শনিবার (২৯ জুন) বিকেলে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ হুঁশিয়ারি দেন। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে মহানগর ও দক্ষিণ বিএনপি। বেলা আড়াইটায় কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশে শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে এই দেশ বর্বর, লুটেরা সরকারের  হাতে একটুও নিরাপদ নয়। একদিকে তারা ভোটের অধিকার হরণ করেছে; অন্যদিকে আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি গণতন্ত্রের সঙ্গে একাত্ন; তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে প্রায় বছর আটক করে রেখেছে। সরকার হটানোর ছাড়া বিকল্প আর কোনো পথ নেই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, এই সরকার থাকা মানে হচ্ছে, আমাদের দেশ, গণতন্ত্র, দেশের মানুষ ধবংস হওয়া। তাই নিজেদেরকে রক্ষা করতে হলে আমাদের আগামীতে সরকারকে পরাজিত করতে চলমান আন্দোলন অবশ্যই আরো তীব্র থেকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। 

নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কে ছাড়িয়ে এ সমাবেশ কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্টুরেন্ট মোড় থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতা-কর্মীদের হাতে হাতে ছিলো খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। 

এর আগে শনিবার সকাল থেকেই মেঘ, রোদ বৃষ্টি মাথায় ঢাকা মহানগর সহ আশপাশের জেলা ও মহানগর থেকে নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকে। এসময় ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘জেলের তালা ভাঙব, খালেদা জিয়াকে আনব’, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, আমরা আছি তোমার সঙ্গে’, ‘জ্বালাও জ্বালাও, শেখ হাসিনার গদিতে আগুন জ্বালাও এক সঙ্গে’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে এই সমাবেশ যোগ দেয়। নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ মাথা লাল ফিতা ও লাল-সবুজ ক্যাপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। 

‘দুই আন্দোলনকে একত্রীভূত করতে এগুতে হবে’

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের গণতন্ত্র ও আন্দোলনের প্রতীক। তাকে বাঁচাতে হলে তাকে রক্ষা করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারকে রক্ষা করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাইতো অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানাতে চাই, আসুন আজকে আমরা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবার জন্য সংগ্রাম করছি, লড়াই করছি, যুগপৎ আন্দোলন করছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে একইভাবে একত্রীভূত করে সোচ্চার আওয়াজ তুলি।

‘দেশের স্বার্থ ভারতকে বিলিয়ে দিয়েছে’

বিএনপির মহাসচিব বলেন,  প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে। দেশের আইন ও পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন; এ চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরোধী। তাইতো আমরা এই স্বার্থবিরোধী চুক্তি প্রত্যাখান করছি। তিনি বলেন, আমরা পানি চাই, আমরা আমাদের ন্যায্য হিৎসা চাই, সীমান্তে হত্যা বন্ধ চাই। তিনি বলেন, এই সরকার সব কিছু বিলিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনা এতো গর্ব করে বলছেন, আমি সব উজাড় করে দিয়েছি। আমাদের প্রশ্ন তিনি তো উজাড় করে দিয়েছেন; তাহলে বাংলাদেশ কি পেলো?  

‘খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে কোনো আপষ নেই’

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের চোর-ডাকাত-বাটপার-বদমাইস সবাই মুক্তি পেয়ে যায়, আর দেশনেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী মুক্তি দিতে চান না। তিনি বলেন, আমরা পরিস্কার বলতে চাই, দেশনেত্রীর মুক্তির স্বার্থে কোনো আপোষ কারো সঙ্গে হবে না। তার মুক্তির দাবিতে আরো কর্মসূচি আসছে। এই আন্দোলন কোথায় গিয়ে থামবে বলা যায় না। এসময় দলীয় প্রদানের মুক্তির আন্দোলন জোরদার করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশনেত্রী এখনো আমাদের মাঝে মুক্ত নন, এখনো তিনি কারাগারে। তিনি সঠিক চিকিৎসাও পান না যেটা মানুষের মৌলিক অধিকার, তিনি জামিন পান না; অথচ খুনের আসামি জামিন পায়। আমরা যখন নামছি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো তাকে মুক্ত করার। তিনি বলেন, আমার নেত্রী ৭ বছর যাবত মঞ্চে আসেন না, ৭টি বছর যাবত তার কন্ঠ জনগণ শুনতে পায় না। তাই আসেন বক্তৃতা থামান, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে ঘরে ফেরেন। 

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে আজকে আইনের শাসন বলে কিছু নাই। যেখানে আইনের শাসন নাই, যেখানে অন্যায় আইন হয়ে যায়, যেখানে মানবাধিকার নেই, যেখানে বিরোধী দলসহ ভিন্নমতকে রুদ্ধ করে রাখে, যেখানে জীবনে নিরাপত্তা নেই, যেখানে জেলখানায় মানুষের মৃত্যু হয়, সেই দেশে শুধু মাত্র প্রতিবাদ করে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটনো যাবে না। যেখানে অন্যায় আইনে পরিণত হয়ে যায় সেখানে প্রতিরোধ কর্তব্য হয়ে পড়ে। আজকে প্রতিরোধ অনিবার্য। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে প্রতিরোধে নামতে হবে।

প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, আসাদুজ্জামান রিপন, কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদ্ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App