হত্যার পর ৮০ টুকরো করা হয় আনারের দেহ, পারিশ্রমিক কত ছিল
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ০৩:৪৪ পিএম
আনোয়ারুল আজীম আনার
ভারতের কলকাতার নিউ টাউনে গত ১৪ মে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। আনারকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করতে জিহাদ হাওলাদার নামের মুম্বাইয়ের এক কসাই ভাড়া করে খুনিরা। যে কি না আনারের মৃতদেহ অন্তত ৮০ টুকরায় বিভক্ত করেন। পরে তা ফেলা হয় খালসহ বিভিন্ন স্থানে। আর এই কাজের জন্য ৫ হাজার রুপি পেয়েছেন তিনি।
শুক্রবার এই কসাইকে ১২ দিনের রিমান্ড দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৪ পরগনার বারাসাত আদালত। রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে কসাই জিহাদ এই তথ্য জানিয়েছেন। সিআইডির ধারণা, এমপি আনারের মরদেহের খণ্ডিত অংশ এরই মধ্যে হয়তো চলে গেছে বিভিন্ন জলজ প্রাণীর পেটে।
এর আগে গত ২২ মে আনোয়ারুল আজিম আনারের হত্যা মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। এরপর গত বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি ‘কসাই’ জিহাদকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। শুক্রবার জিহাদকে উত্তর ২৪-পরগনার বারাসত জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১২ দিনের রিমান্ড দেন। মূলত আনারকে হত্যার জন্য ভারতের মুম্বাই থেকে ‘কসাই’ খ্যাত জিহাদ হাওলাদারকে কলকাতায় আনা হয়। কলকাতায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আনারকে হত্যার পর কীভাবে তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে দেয়া হয়, তার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
কসাই জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি জানিয়েছে, এমপি আনারকে হত্যার পর তার মরদেহ ৮০টি টুকরো করেন কসাই জিহাদ। এরপর সেই অংশগুলো ফেলা হয় কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত ভাঙড়ের কৃষ্ণমাটি এলাকার বাগজোলাখালির বিভিন্ন স্থানে। সিআইডির আশঙ্কা, এরই মধ্যে হয়তো আনারের দেহের খণ্ডিত অংশ জলজ প্রাণীদের পেটে চলে গেছে।
সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ২৪ বছর বয়সি জিহাদ হাওলাদার বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি অবৈধভাবে ভারতের মুম্বাইয়ে বাস করতেন। তার বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুরে। তার বাবার নাম জয়নাল হাওলাদার। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আক্তারুজ্জামান শাহীন দুই মাস আগে জিহাদকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন।
সিআইডি বলছে, শাহীনের নির্দেশে জিহাদসহ চার বাংলাদেশি মিলে আনারকে ওই ফ্ল্যাটে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে হলুদ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে পথে কেউ ধরলে বলতে পারে, বাজার থেকে কেনা। উদ্দেশ্য ছিল, এভাবে গুম করা হবে, যাতে কেউ কোনো দিন তার অস্তিত্ব না পায়।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে বাড়িতে চিকিৎসার কথা বলে কলকাতায় যান এমপি আনার। ওই সময় তিনি তার পুরোনো বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে উঠেন। তবে ১৪ মে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
