পাকিস্তানিদের ওপর মার্কিন সেনাদের গুলি, নিহত ১০
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলার সময় মার্কিন মেরিন সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। সোমবার (২ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তারা এ তথ্য দেন। কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের শক্তি প্রয়োগ বিরল ঘটনা। এতে দেশটিতে চলমান উত্তেজনাকে আরো উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট প্রাঙ্গণের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়লে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবরে পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, মেরিনদের ছোড়া গুলি কাউকে সরাসরি আঘাত করেছে বা নিহত করেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া কনস্যুলেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী বা স্থানীয় পুলিশ সদস্যরাও গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছিল। তবে তিনি কোন বাহিনীর সদস্যরা এতে জড়িত ছিলেন, তা উল্লেখ করেননি।
আরো পড়ুন : পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব, নিহত ৯
সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনগুলোর দৈনন্দিন নিরাপত্তা দায়িত্ব বেসরকারি ঠিকাদার ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পালন করে থাকে। তবে এ ঘটনায় মার্কিন মেরিনদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও জটিলতা তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পাকিস্তান ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। সোমবার দেশজুড়ে বড় ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ইরান ইস্যুতে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভে দেশব্যাপী অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
রোববার কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান দেন। রয়টার্স জানিয়েছে, গুলির শব্দ শোনা এবং আশপাশের রাস্তায় টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে কনস্যুলেটের দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে।
করাচি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কনস্যুলেটের ভেতর থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন মেরিন বাহিনী বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। এরপর সেখান থেকে তা পররাষ্ট্র দপ্তরের ওপর ন্যস্ত করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এদিকে শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা লাহোর ও করাচিতে আরো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত। এছাড়া পেশোয়ার ও লাহোরে আরো দুটি কনস্যুলেট রয়েছে। করাচির কনস্যুলেটের আশপাশে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাহোর ও ইসলামাবাদেও অনুরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
