জয়-পরাজয়
নিয়াজ জামান সজীব
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
জয়-পরাজয়
এ দুনিয়ায় হায় কে পরাজিত হতে চায়। সবাই চায় জয়লাভ করতে। জয় নাকি পরাজয়। বেছে নিতে বললে সবাই জয় নেবে। যদিও অনেকে প্রেমিক বা প্রেমিকা প্রেমে পরাজয় মেনে নিয়ে অন্যকে জয় উপহার দিয়ে নিজেকে প্রেমে সফল মনে করে। দৃষ্টিভঙ্গির কারণে একই ফলাফল কারো জন্য জয়, আবার কারো জন্য পরাজয় হতে পারে। তবে, যুদ্ধে সবাই জিততে চায়। নির্বাচনেও তাই। কেউ আবার পরাজিতের পক্ষে থাকলেও সময়ের সাথে জয়ীর দলে ভিড়ে যায়। আহ জয়! এর আনন্দই আলাদা। সে যেভাবেই হোক না কেনো।
প্রকৃতির কি লীলা-খেলা, জয় বলি আর পরাজয়, প্রথমে মনোজগতে স্থান পায়। সেখান থেকেই ঠিক হয় আসলে কোনটা কি হবে। তবে ভয় ও নেতিবাচক চিন্তা ছেড়ে মনের জোরে জয় পাওয়ার আনন্দই আলাদা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমরা চকলেট দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। আসলে জেতার জন্য মানে দৌড়ে প্রথম স্থান পাওয়া নাকি চকলেটের লোভে দৌড়াতাম সে বিষয়ে বিস্তর গবেষনা প্রয়োজন। শিশু মন হলো জগতের সবচেয়ে বড় আয়োজন। সৃষ্টিকর্তা মানে আল্লাহর দেয়া পবিত্র মনে কত কি যে কতভাবে খেলা করে।
যাদের বুদ্ধি বেশী তারা বলেন, জয়-পরাজয় জীবনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা লাভের জন্য জয় বা পরাজয় দুটি বিষয়ই জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, বুদ্ধি যাদের অতীব বেশী তারা সবসময় জয়লাভ করতে চায়। বাঘ জানে সবসময় সেই জিতবে। অনেক সময় তার চেয়ে কম শক্তির প্রাণীর বুদ্ধির কাছে তাকেও পরাজয় মানতে হয়।
জয়-পরাজয় নামে চলচ্চিত্র হয়েছে। গল্প-কবিতাও এই দুই বিষয়ে লেখা হয়েছে। জীবন এই দুই শব্দেই ঘুরপাক খেতে খেতে কখন যে ফুরিয়ে যায়। কতজন তার খোঁজ রাখে?
এই যে জীবন- কেমন যেনো একটা চাকা, যা কখনোই সোজা হতে পারে না। ঘুওে আবার সেই শিশু মনের কাছে ফিরে যায়। ঘূর্ণয়মান পথে কত যে রঙ বদলায়- কত পথ চেনা অচেনা হয়ে যায়। কত রমনীর কোল ভেঙ্গে যায়। এ যেনো শরতের মাঝেও গ্রীষ্মের শীতার্ত আহবান।
জয় ও পরাজয়ের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সবসময়ই বিদ্যমান । একজন ছাড়া অন্যজন অচল। যদিও মানুষের নাম জয় হলেও পরাজয় কারো নাম হয়না। এ জগতে যদি পরাজয় না থাকতো, তবে জয়ের কোনো মাহাত্ম্য থাকতো না। কেউ জয়ী হতে চাইতো না।
পরাজয় থেকে পাওয়া শিক্ষা মনোবল তৈরি করে, যা পরবর্তী যুদ্ধে বা খেলায় জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। যুদ্ধ বা লড়াই অসম হতে পারে। কিন্তু জয়-পরাজয় কখনো এই অসম ব্যবধান মেনে হয় না। মূলত সময়ের সাথে কৌশল আর অদম্য স্পৃহা মানুষকে জাগিয়ে তোলে।
সত্যের জয় সবসময়ই হয়। তবে শক্তির কাছে সাময়িক হেরে গেলেও দিন শেষে মিথ্যা আর টিকতে পারেনা। তাই তো পৃথিবী এখনো টিকে আছে হাজারো মিথ্যার ভিড়ে সত্যকে বুকে নিয়ে। তাই তো কবি বলেছেন- সত্য সময় নেয়, কিন্তু পথ হারায় না। অন্ধকার ঘিরে ধরে, কিন্তু আলো ছড়িয়ে যায়। এটাই আলোর সৌন্দর্য।
মানুষ সবসময় আশা নিয়ে চলে-বাঁচে। আশা নিয়ে সেই রাজনীতির মহানায়কের ডাকে সাড়া দিয়ে নয় মাসের যুদ্ধ জয়ী এই জাতি পেয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ উচ্চতার সেই মানুষটির গায়ের রং এই কাদামাটি ও জলের মতো। যতবার হত্যা করা হয় ততবারই তার নতুন করে জয় হয়। নিজের জীবনে বারবার পরাজিত হয়েও এ জাতিকে জিতিয়ে গেছেন তিনি। ইতিহাস যে যার মতো লেখে। কিন্তু ইতিহাস জানে কে সত্য আর কে তাকে ধারণ করে। তাই সত্য থাকে অবিচল, সাময়িক পরাজয়ে ডরে না বীর।
চলমান ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে মূলত তেল নিয়ে জয়-পরাজয়। তেল মানে তোষামোদ নয়। এ হলো খাঁটি জ্বলানী তেল, যা পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এখানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতে চায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধে কার জয় আর কার পরাজয় হবে- তা নির্নয়ের সময় এখনো আসেনি। তবে উভয় পক্ষই যে শক্ত অবস্থানে আছে তা তো যুদ্ধেও গতি প্রকৃতি দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এখন জরুরী হলো একটি টেকসই কাঠামো তৈরি করা, যার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তেল যেখানে উপস্থিত সেখানে তো স্থায়ী বলে কিছু হবে না। কারণ তেল ও জল কখনো মেশে না।
লেখক: সাংবাদিক
