শাহজালালে আগুনের ঘটনায় গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো শেডের আমদানি অংশে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত প্রায় ৩টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতের দিকে কার্গো শেডের আমদানি বিভাগে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিমান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি, তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কিংবা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশনের পরিচালক ইফতেখার জাহান হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে আরও বিস্তৃত তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটিই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।
তিনি জানান, গত বছরের ১৮ অক্টোবর একই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর কার্গো ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। বিশেষ করে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের সাত দিনের মধ্যে আমদানি পণ্য ছাড় করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য সেখানে জমে ছিল। যেখানে প্রায় ২০ টনের বেশি মালামাল থাকার কথা নয়, সেখানে দেড় শ’ টনেরও বেশি পণ্য স্তূপাকারে রাখা হয়েছিল। বিষয়টিতে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ছিল কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
আগুনটি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতার ফল- এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। যদি কারও গাফিলতির কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রীও বলেন, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তবে কেন এমন শর্ট সার্কিট ঘটবে, সেটিও তদন্তের বিষয়। একই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে, ফলে ব্যবস্থাপনায় কোথাও দুর্বলতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বছরের অগ্নিকাণ্ডের পর নতুন শেড নির্মাণের পরিবর্তে সাময়িকভাবে ক্যানোপি বা অস্থায়ী কাঠামোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কারণ, জাপানের সহযোগিতায় তৃতীয় টার্মিনাল ও নতুন আমদানি-রপ্তানি গুদাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ মালামাল সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকবে।
তিনি বলেন, অস্থায়ী ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কেন তা হয়নি এবং এতে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বছরের ১৮ অক্টোবরও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। প্রায় আট মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় আবারও আগুন লাগায় নিরাপত্তা ও কার্গো ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
